
রিয়া মনি, বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি
ঢাকা বাঙলা কলেজের অধ্যাপক আবুল কাসেম ছাত্রাবাসে দীর্ঘ সময় ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। আবাসিক পরিবেশে নেই ন্যূনতম মৌলিক সুযোগ-সুবিধা। প্রশাসনের একাধিক আশ্বাস সত্ত্বেও বাস্তবে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন।
২০২৪ সালের ১ নভেম্বর দীর্ঘদিন পর আবুল কাসেম ছাত্রাবাসটি পুনরায় খোলা হয়। শিক্ষার্থীরা ভেবেছিলেন, সংস্কারের মাধ্যমে এবার ছাত্রাবাসে থাকবে নতুন পরিবেশ। কিন্তু বাস্তবতা হয়েছে তার উল্টো। খোলার আগেই অধ্যক্ষ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘ছাত্রাবাস রঙ করে, সুন্দরভাবে খোলা হবে।’ কিন্তু খোলার পর দেখা যায়, পুরনো অবস্থাতেই থেকে গেছে ছাত্রাবাসটি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রাবাসে আসন থাকলেও অধিকাংশ কক্ষে নেই মানসম্পন্ন চেয়ার-টেবিল। বহু শিক্ষার্থী পুরোনো ও ভাঙা আসবাব দিয়ে কোনো রকমে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। রিডিং রুমের অবস্থাও করুণ— নেই ঠিকমতো আলো, ফ্যান বা আসবাব। বাইরের শব্দে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। থাই গ্লাস লাগানোর কথা থাকলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।
পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার অবস্থা আরও খারাপ। প্রতিটি ফ্লোরের বেসিন থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে নিচতলায় জমে থাকে। এতে সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব। কখনো কখনো সেই পানি রুমের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। ছাত্রাবাসের আশপাশেও রয়েছে জঙ্গল ও আবর্জনার স্তূপ, যা সাপের উপদ্রব বাড়িয়ে তুলেছে। শিক্ষার্থীরা একাধিকবার সাপ দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন, যা তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে হোস্টেল সুপারের কার্যালয়টি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা সময়মতো সহযোগিতা পান না। কোনো অভিযোগ জানাতে গেলে সাড়া মেলে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ছাত্র প্রতিনিধি সভাতেও কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।”
হোস্টেল সুপার কামরুন নাহার বলেন, “৫ আগস্টের পর ছাত্রাবাসের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়ে। আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে। এ বছরের জন্য ৫ লাখ টাকার বাজেট এসেছে, দ্রুত কাজ শুরু হবে।”
অধ্যক্ষ কামরুল হাসান বলেন, “ছাত্রাবাসের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে যে বাজেট এসেছে, তার কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।”
শিক্ষার্থীরা বলছেন, সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। “এবার কেবল আশ্বাস নয়, চাই দ্রুত বাস্তব পরিবর্তন,”—এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের। তারা মনে করছেন, ছাত্রাবাসের পরিবেশ শিক্ষার উপযোগী না হলে তা পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়িয়ে তুলবে।