বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :
বগুড়া জেলার নন্দীগ্রামে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭ ঘটিকায় নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪নং থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ছোট চাঙ্গুইর গ্রামের মোঃ ইদ্রিস আলী মাষ্টারের ৪ বছরের ছেলে আব্দুল মুনিম নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের স্বীকার হয়। এই নৃসংশ হত্যাকান্ডের বিষয়ে নিহতের বাবা মোঃ ইদ্রিস আলী মাষ্টার বাদী হয়ে নন্দীগ্রাম থানায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ইং তারিখে ৩০২/২০১ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করে।
উক্ত হত্যা মামলার সূত্র ধরে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেনের নির্দেশনায় পুলিশের তিনটি চৌকশ টিম দিনরাত পরিশ্রম করে এবং গুপ্তচর নিয়োগ করে ব্যপক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত আলামত ও স্থানীয় লোকজনের বক্তব্যের সূত্র ধরে হত্যার মূল আসামী ছোট চাঙ্গুইর গ্রামের প্রতিবেশী মোঃ আনসার আলী প্রামানিকের ছেলে মোঃ আমিনুল ইসলাম (২০) কে সন্দেহভাজন ভাবে থানায় নিয়ে আসে।
তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে। সে তার বক্তব্যে বলে,
প্রতিবেশী ইদ্রিস মাষ্টারের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বিরাজ করছিল। উক্ত ক্ষোভের কারণে অস্থিতিশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী আসামী আমিনুল ইসলাম শিশু মুনিমকে রাস্তায় পড়ে থাকা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে ও তার লাশ গুম করার জন্য পাশের কূপে ফেলে রাখে।
তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক আসামী আমিনুল (২০)কে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১০ টায় গ্রেপ্তার করে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ ।
হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত সমূহ-
২ টি রক্তমাখা বাঁশ, ভিকটিমের ব্যবহৃত খেলনা রিকশা, আসামীর ব্যবহৃত রক্তমাখা জামাকাপড় ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অর্ধেক ইট জব্দ করা হয়।
এই বিষয়ে আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১ টায় নন্দীগ্রাম থানায় এই নৃশংস হত্যাকান্ডের বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত পাঠ করেন বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বগুড়া সদর সার্কেল) মোঃ শরাফত ইসলাম। সেখানে তিনি হত্যাকান্ডের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে নন্দীগ্রাম থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন, কুমিড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, নন্দীগ্রাম থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ খায়রুল ইসলাম, থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) খায়রুল ইসলাম এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
