
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) শব্দগুলো শুনলেই সাধারণত আমাদের মাথায় এমন একটা স্থানের চিত্র আসে যে স্থানটা সবসময় থাকবে উক্ত ক্যাম্পাসের ছাত্র-শিক্ষকদের পদচারণায় মুখরিত। যে স্থানটি হবে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক ও সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রস্থল।
ক্যাম্পাসের বিদ্যমান প্রায় প্রতিটি সামাজিক এবং সংস্কৃতির সংগঠন এর কাজ পরিচালনা হবে এখান থেকে।
কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এদিক থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) এর টিএসসির চিত্র যেনো একেবারে উল্টো।বন্ধের দিনে বেশিরভাগ সময় শুনশান নীরবতা বজায় থাকে টিএসসিতে।গেটে লাগানো থাকে তালা যার কারনে শিক্ষার্থীরা চাইলেই আড্ডা দিতে পারেন না টিএসসিতে।টিএসসির ক্যাফেটেরিয়াও থাকে বন্ধ।
এ বিষয় কথা বলতে গিয়ে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রনি খান অভিযোগ করেন,”টিএসসি (টিচার্স স্টুডেন্টস সেন্টার) বাংলাদেশের প্রায় সব বড় বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটি প্রাণকেন্দ্র, যেখানে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে এসে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও সংগঠনভিত্তিক নানা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুরু করে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণকে শিক্ষার্থীদের আড্ডা, শিল্পচর্চা, রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়। এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা এবং সুস্থ বিনোদনের বড় মাধ্যম।কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক চাপের কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ সৃষ্টি হয়। ঠিক এই সময়টাতেই একটি সক্রিয় টিএসসি প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থীদের মনকে প্রশান্তি দিতো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিতে সুযোগ করে দিতো। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে খোলা থাকে না; অনেক সময় তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন,বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৩৫ টিরও বেশি সক্রিয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন থাকলে তার মধ্যে টিএসসিতে হাতেগোনা কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের কার্যালয়ের স্থান হয়েছে যা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মুক্ত বুদ্ধি চর্চা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পথে বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছে।কিন্তু এই সংকটের মধ্যেও টিএসসিতে শিক্ষকদের জন্য একটা রুম অনর্থকই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা একেবারে ব্যবহার হচ্ছে না, পড়ে আছে।
এ বিষয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি মেহেদী আরেফিন বলেন,” আমরা লক্ষ্য করেছি, টিএসসি’র একটি ফ্লোর শিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।আমাদের চাওয়া, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন টিএসসি’র সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রুম বরাদ্দে আরও সহায়ক ভূমিকা রাখে। এতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।
এ বিষয় জানতে চাইলে ববি টিএসসির পরিচালক মোঃতরিকুল হক জানান,প্রথমত জায়গা সংকটের কারনে আমাদের ম্যাক্সিমাম সমস্যা গুলো হচ্ছে। রুম সংকটের জন্য আমরা চাইলেও সকল সংগঠনের জন্য রুম বরাদ্দ দিতে পারছি না।তবে আশা করছি বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে চলমান প্রজেক্ট যত তারাতাড়ি শেষ হবে তত তারাতাড়ি স্পেস এর বিষয় টা সমাধান হবে। আর একটা বিষয় আমরা বন্ধের দিনে টিএসসি সাধারণত খোলা রাখতে পারি না কারন আমাদের টিএসসি কেন্দ্রীক স্টাফ সংকট রয়েছে। তবে আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে দেখবো যে নতুন ভাবে স্টাফ নিয়োগ দেওয়ার কোনো উপায় আছে কি না এবং শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত রুমের যে বিষয়টি উঠেছে সেটা আসলে আপনার দেখতে হবে যে স্থানটির নাম টিচার্স স্টুডেন্ট সেন্টার সেখানে শিক্ষকদের জন্য একটা রুম বরাদ্দ থাকাটা নিয়মের বাইরের কিছু না।