
টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
কারিগরির অভিজ্ঞতা সনদ ও অধ্যক্ষ পদে কর্মরত অবস্থায় মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগপ্রাপ্তি, জালিয়াতির মাধ্যমে বউয়ের নামে প্রতিষ্ঠানের চার শতাংশ জমি লিখে নিয়ে ভবন নির্মাণ, বাস কেনা ও দোকান ভাড়াসহ কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে আনোয়ারুল কবীর নামের সরকারি এক কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা পৌর শহর এলেঙ্গায় স্থাপিত সরকারি শামসুল হক কলেজে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বরত রয়েছেন তিনি। নিয়োগ প্রাপ্তিকালে ওই কলেজ পরিচালনা পর্ষদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন নানা বিতর্কে জর্জরিত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর।
সীমাহীন দূর্নীতির প্রতিবাদ আর কলেজ সম্পদ রক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন, দূর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরে কলেজের ভূমি দখল মুক্তকরণ আহ্বায়ক কমিটিসহ একাধিক শিক্ষক দফায় দফায় অভিযোগ করলেও টানা নয় বছর যাবৎ চাকুরীতে বহাল রয়েছেন অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর। এছাড়াও সম্প্রতি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র হত্যা মামলার নাম উল্লেখিত আসামী হয়েও রয়েছেন কারামুক্ত।
স্পর্শকাতর এত অভিযোগ নিয়েও আওয়ামীলীগের দোসর আনোয়ারুল কবীর এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ পদে কিভাবে বহাল এমন প্রশ্ন তুলেছেন জেলা ও উপজেলার শিক্ষানুরাগীরা।
দ্রুত বিতর্কিত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষানুরাগীরাসহ লিখিত অভিযোগকারী কলেজের শিক্ষকবৃন্দ।
তবে শামসুল হক কলেজ অধ্যক্ষ পদে যোগদানপত্রে হাজী আবু হাসেম টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ পদের অভিজ্ঞতা ও কর্মরত থাকার তথ্য গোপন রেখে ত্রিশালের একটি কারিগরি কলেজের ১২ বছরের অভিজ্ঞতা সনদ দেন তিনি।
বিতর্কিত ওই অধ্যক্ষের ভবন নির্মাণ করাসহ আওয়ামীলীগ নেতার দখলে থাকা জমির দলিল,খাজনা,খারিজ, হোল্ডিংসহ সর্বশেষ রেকর্ড সরকারি শামসুল হক কলেজের নামেই সম্পাদিত বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আদালত শ্রীপুর, গাজীপুরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র বিপ্লব হোসেন হত্যার দায়েরকৃত মামলায় অধ্যক্ষ আনোয়ারের নাম রয়েছে।
ছাত্র হত্যা মামলায় দৃশ্যময় আইনী কোন ব্যবস্থা নেয়া না হলেও, ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বর্তমান বাজার মূল্যের কলেজের ৪ শতাংশ জমি স্ত্রীর নামে লিখে নেয়া, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উত্তোলনকৃত কলেজ বাস কেনার ৩২ লাখ টাকা ও যোগদানের পর থেকে কলেজের মালিকাধীন ২৮টি দোকানের ভাড়া (যার প্রতিটি দোকানের ভাড়া গড়ে ৬ হাজার টাকা) কলেজ ফান্ড বা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দেয়াসহ আওয়ামীলীগ নেতার দখলে থাকা ১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বর্তমান বাজার মূল্যের কলেজের ৭৪ শতাংশ জমি উদ্ধারে কেন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। রহস্য উদঘাটনে দূর্নীতি দমন কমিশনে এরই মধ্যে জেলা কার্যালয় থেকে তদন্তের অনুমোদন চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইল দূর্নীতি দমন কমিশন আয়োজিত গণ শুনানীতে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীরের বেপরোয়া ওই দূর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দেন দূর্নীতি দমন কমিশনের (তদন্ত) কমিশনার মিঞা মোহাম্মদ আলি আকবর আজিজী।
অন্যদিকে, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে ২০১৬ সালেও হাজী আবু হাসেম টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ পদে কর্মরত ছিলেন আনোয়ারুল কবীর বলে নিশ্চিত করেছেন ওই কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন সোহাগ। তিনি কারিগরি শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত এলেঙ্গা বিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বলেও জানান তিনি।
অভিযোগে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৬ জুন একটি দৈনিক জাতীয় পত্রিকায় শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। ওই বছরের ১৬ জুন মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর থেকে সরকারী তালিকাভূক্ত করণের কলেজসমূহে নিয়োগের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অফিস আদেশ জারি করে। ২২ জুন শাসছুল হক মহাবিদ্যালয় কলেজটি জাতীয়করণের তালিকাভূক্ত হয়। এরই মধ্যে ওই কলেজ পরিচালনা পর্ষদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি আনোয়ারুল কবীরের অধ্যক্ষ পদে চাকুরীর আবেদনের বয়স পূর্ণ হয়। আবেদনের বয়স পূর্ণের সুযোগ নিয়ে ও মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের সরকারী তালিকাভূক্ত করণের কলেজসমূহে নিয়োগের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ৫ সেপ্টেম্বর শামসুল হক কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য আবার একটি দৈনিক জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নিয়োগ বিধিমালা অমান্য করে ২০০১ সাল থেকে টানা ২০১৬ সাল পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত কালিহাতী উপজেলার চরনগরবাড়ীর বেসরকারি হাজী আবু হাসেম টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বরত ও ত্রিশালের একটি কারিগরি কলেজের ১২ বছরের অভিজ্ঞতা সনদে আনোয়ারুল কবীরকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি না মেনেই দরখাস্ত বাছাইসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ দেন দরখাস্ত বাছাই কমিটি। মোটা টাকার বিনিময়ে অবৈধ ওই নিয়োগের নেপথ্যে ছিলেন ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালে ৭ আগস্ট পর্যন্ত শামসুল হক কলেজ পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ও তৎকালীন সরকার দলীয় উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মোল্লা। ওই নিয়োগের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দেন কলেজের তৎকালীন শিক্ষক হাসান হাফিজুর রহমান। এরপরও ২০১৬ সালের ১ জুন কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন আনোয়ারুল কবীর।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চাকুরী নীতিমালা বর্হিভুত কারিগরির অভিজ্ঞতা সনদে মাধ্যমিক কলেজে নিয়োগ অবৈধ বিধায় ২০১৬ সালে ৭ জুলাই সভাপতির ব্যাখা চেয়ে চিঠি পাঠায়। কলেজ সভাপতি ওই চিঠির কোন ব্যাখা না দেয়ায় পূনরায় ১৮ সেপ্টেম্বর সভাপতিকে আবার আরেকটি শতকর্তামূলক চিঠি দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আওয়ামীলীগ সমর্থিত স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি বিতর্কিত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর আর তৎকালীন শামসুল হক কলেজ পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ও সরকার দলীয় উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মোল্লার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ নেতা সাবেক এমপি শাজাহান সাজু এবং শিক্ষা অধিদফতরের তৎকালীন ইন্সেটেক্টর খালেকুজ্জামানের আঁতাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদকে ম্যানেজসহ একতরফা রায়ের মাধ্যমে বিধি বর্হিভুত ওই নিয়োগের বৈধতা নেয়া হয়। কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পরও দীর্ঘদিন দুইটি ইনডেক্স ধারী ছিলেন বিতর্কিত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর বলেও উল্লেখ রয়েছে।
দূর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানীতে কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের উত্থাপিত অভিযোগে জানা যায়, ১৯৭৩ সালের ১৫ নভেম্বর সাবেক ৬৫নং খতিয়ান, সাবেক দাগ নং- ৫৩২, বর্তমান/হাল খতিয়ান নং ৫. বর্তমান দাগ নং ৭৯৬, এলেঙ্গা মৌজার ৪ শতাংশ জমি ৬৯১৩ নং দলিল মূলে লিখে দেন মুছা তালুকদারের স্ত্রী মমতাজ বেগম। দলিলকৃত ৪ শতাংশ জমির হাল রেকর্ড সরকারী শামসুল হক কলেজের নামে শুদ্ধভাবে অন্তর্ভুক্ত। যা ২০১৭ সালের ২ মে দলিল নং ২৯৬৩ এর মাধ্যমে ও কলেজ সরকারি হওয়ার নিয়ম অনুসারে বাংলাদেশ সরকার বরাবর শিক্ষা সচিবের নামে ওই জমি লিখে (ডিড অফ গিফট) দেন বর্তমান অধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল কবীর। যার হালনাগাদ হোল্ডিং, খাজনা ও খারিজ কলেজের নামেই রয়েছে। পরবর্তীতে কলেজের ওই ৪ শতাংশ জমির একাধিক মালিক বানিয়ে ২০১৮ ও ১৯ সালের বিভিন্ন তারিখ আর ৬৫১৬, ১৬৩৪, ৫৬০৩ নং দলিলে স্ত্রী মিনা সুলতানার নামে এওয়াজ দলিলের মাধ্যমে লিখে নিয়ে ৪ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন অধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল কবীর।
অপরদিকে, ১৯৭২ সালের ২০ অক্টোবর সাবেক খতিয়ান নং ৩৪৯/৩৫০ ও সাবেক দাগ নং ৬০৫ এবং হাল খতিয়ান নং-৫ ও হাল দাগ নং ৯২৪/৯২৬ এর ৫০ ও ২৪ মোট ৭৪ শতাংশ জমি ১০০০৫নং দলিলের মাধ্যমে দাতা মো. হাছেন আলী সরকারী শামসুল হক কলেজকে লিখে দেন। ওই জমির বর্তমান রেকর্ড, খাজনা ও খারিজ সরকারী শামসুল হক কলেজের নামেই রয়েছে।
২০১৭ সালে কলেজ সরকারী হলেও রহস্যজনক কারণে ওই ৭৪ শতাংশ জমি বাংলাদেশ সরকার বরাবর শিক্ষা সচিবের নামে লিখে দেননি অধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল কবীর। মাত্র ২৪ শতাংশ জমির দাম নিয়ে বেদখলকারী আওয়ামীলীগ নেতা সাইম উদ্দিন এর সাথে অধ্যক্ষ আনোয়ার রফা করেছেন বলে সবমহলে গুঞ্জন রয়েছে। এ কারণে ওই জমি দখলমুক্ত করার কোন উদ্যোগ নিতে পারেননি এবং আজ অবধিও জমিটি সরকার বরাবর লিখে দেননি অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষের স্ত্রীর নামে লিখে নেয়া ৪ শতাংশ জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ও বেদখলে থাকা ৭৪ শতাংশ জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২১ কোটি টাকা।
এছাড়াও অধ্যক্ষের স্বীকারোক্তি দেয়া কলেজ বাস কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে উত্তোলনকৃত ৩২ লাখ টাকাসহ কলেজ মার্কেটের ২৮টি দোকানের ভাড়া (যার প্রতিটি দোকানের ভাড়া গড়ে ৬ হাজার টাকা) কলেজ ফান্ড বা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দেয়ার অভিযোগও উল্লেখ রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের ফলে বিপাকে পরলেও স্থানীয় বিভিন্ন নেতার সহায়তায় অধ্যক্ষ পদটি ধরে রেখেছেন আনোয়ারুল কবীর এমন অভিযোগ তুলেছেন কর্মচারীরা। গেল ৪ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক বরাবর কলেজের ভূমি দখল মুক্তকরণ ও মামলা অব্যাহতকরণের চিঠি প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানের ভূমি দখল মুক্তকরণ আহ্বায়ক কমিটি।
অবৈধ অধ্যক্ষ নিয়োগের অভিযোগকারী অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক হাসান হাজিজুর রহমান বলেন, আমি হজ্ব করে এসেছি ও বর্তমানে অবসরে আছি। আমি এখন কোন ঝামেলায় পরতে চাচ্ছি না। অধ্যক্ষ নিয়োগ অবৈধ ছিল বলেই তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আমি অভিযোগ করেছিলাম।
তবে তৎকালীন প্রভাষক হাসান হাফিজুর মোটা টাকায় বিক্রি হওয়ায় ওই লিখিত অভিযোগ থেকে পার পেয়ে যান অধ্যক্ষ আনোয়ার বলে কলেজের শিক্ষকবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলে প্রচার রয়েছে।
কলেজের ভূমি দখল মুক্তকরণ কমিটির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম বলেন, জমি ২ টির অভিযোগ দুদক কমিশনার তদন্তের জন্য অনুমতি দিয়েছেন। এছাড়াও অন্য সকল দুর্নীতির বিষয় গুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধও করেছি।
সরকারী এম এম আলী কলেজ উপাধ্যক্ষ খন্দকার আরিফ মাহমুদ বলেন, সেসময় আমি জানতে পাই শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ পেয়েছি তথ্যটি পেয়েছিলাম। পরে আবার তা বাতিল করা হয়েছে। আমি অধিদফরের গিয়ে খোঁজ নিলে অর্ডারটি ওয়েভ সাইট থেকে তুলে ফেলা হয়। অর্ডারটি যদি ২৪ ঘন্টা থাকতো তাহলে আমার নিয়োগটা হত। কি কারণে আমাকে অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে আবার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তা বাতিল হলো, সে বিষয়টি জানতে চাইনি।
সরকারী শামসুল হক কলেজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীরের কাছে অভিযোগ উঠা তথ্য জানতে চাইলে কোন কথা না বলে উত্তেজিত হয়ে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে দ্রুত বের হয়ে যান। পরে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি সম্প্রতিই থানায় যোগদান করেছি। গাজীপুর আদালত থেকে ছাত্র হত্যার কোন লিখিত অভিযোগ আমি পাইনি। অভিযোগের বিষয়টি জানতে আদালতে যোগাযোগ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে দূর্নীতি দমন কমিশন টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম জানান, তদন্ত শুরুর অনুমোদন চেয়ে ঢাকায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই তদন্ত কাজ শুরু করা হবে।