
আবির হোসেন বাউফল (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফলে পুলিশের অভিযানে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১ নভেম্বর ২০২৫) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাউফল থানার এসআই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বাউফল পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের দাসপাড়া এলাকার আলাউদ্দিন খানের ছেলে সোহাগ খানএবং ৬নং ওয়ার্ডের মোশারফ হোসেন সিকদারের ছেলে মো. বিল্লাল সিকদার। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট* উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ খান স্বীকার করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং বাউফলের কাগজীরপুল, নুরাইনপুর বাজার, কালাইয়া ও দাসপাড়া ল্যাংড়া মুনসির পোলসহ বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করে আসছেন।
গ্রেফতারের পর স্থানীয় সাংবাদিকরা সোহাগ খানের সঙ্গে কথা বললে তিনি একাধিক ক্রেতার নাম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে একজন স্থানীয় সাংবাদিক ও একজন চিকিৎসকের নামও উল্লেখ করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মাই টিভির বাউফল প্রতিনিধি সাংবাদিক অহিদুজ্জামান ডিউক অভিযানের ভিডিও ধারণ করে নিজের ফেসবুক পেজ “বাউফল ফেইস” এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডি ফেইজ ২৪-এ প্রকাশ করেন। ভিডিওটি প্রকাশের কিছুক্ষণ পর একটি অজ্ঞাত ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সাংবাদিক অহিদুজ্জামান ডিউক বলেন, “ভিডিওটি প্রকাশের কিছুক্ষণ পর গভীর রাতে আমার বাসার সামনে ৪–৫ জন মুখোশধারী এসে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং বলে, ভিডিওটি ডিলিট না করলে আমাকে মেরে ফেলবে।” তিনি আরও জানান, “আমি বিষয়টি বাউফল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ভাইকে জানিয়েছি এবং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।”
বাউফল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, “ঘটনার পর বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মাই টিভির বাউফল প্রতিনিধি অহিদুজ্জামান ডিউক আমাকে বিষয়টি জানান। আমরা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তার পাশে আছি এবং ইতোমধ্যে থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।” বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আখতারুজ্জামান সরকারবলেন, “গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হবে। সাংবাদিক অহিদুজ্জামান ডিউকের অভিযোগও আমরা পেয়েছি; তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”