
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রামে সংঘটিত আলোচিত ও রাজনৈতিক দুটি হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় দ্রুত বিচার শেষ করার জোর দাবি জানিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শহীদ ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের কথা শোনেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় বড়াইগ্রামের দুই শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে নিহতদের স্বজনরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
২০০২ সালের ২৮ মার্চ বড়াইগ্রাম উপজেলায় রাজনৈতিকভাবে প্রথম আলোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তৎকালীন বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শহীদ মোঃ আলম মোল্লা। তার পরিবারের পক্ষে সভায় উপস্থিত ছিলেন ভাতিজা মোঃ শাহেদ মোল্লা।
অনুষ্ঠান শেষে শাহেদ মোল্লা জানান, চাচা শহীদ আলম মোল্লাকে হত্যার প্রায় দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো হত্যাকারীরা আইনের আওতায় আসেনি। তিনি অভিযোগ করেন, আলম হত্যা মামলাটি হাইকোর্টে আইনি প্রক্রিয়ায় স্থগিত থাকায় বিচার কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তবে মামলাটি পুনরায় চালু করতে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে আলোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বনপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও তৎকালীন বনপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবু। তার পরিবারের পক্ষে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী মহুয়া নূর কচি।
তিনি বলেন, শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আলম হত্যা মামলায় আসামির সংখ্যা ২১ জন এবং শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যা মামলায় আসামি ২৭ জন। দুটি মামলায় মোট ১৭ জন আসামি অভিন্ন, যাদের বিরুদ্ধে উভয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে একদিন এসব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হবে।