
টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাংগাইলের মির্জাপুরে নয়নী রাজবংশী(৬৪)নামে এক নারী নির্মাণ শ্রমিককে শ্বাসরোধে হত্যার পর ধর্ষণের অভিযোগে নির্মাণ শ্রমিক রবিউল মিয়া(২৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।ঘটনার ৩দিন পর লৌহজং নদীর তীর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।শুক্রবার টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মির্জাপুর আমলী আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।নিহত নয়নী রাজবংশী মির্জাপুর পৌর এলাকার আন্ধরা গ্রামের মরণ রাজবংশীর স্ত্রী।বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে আন্ধরা গ্রামের কাদের মিয়ার বাড়ির পাশের ঝোপ থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়,রবিউল ও নয়নী একসঙ্গে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।সেই সূত্রে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।বিষয়টি নিয়ে রবিউলের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।ঈদুল আজহার আগে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে গেলে নয়নীর প্রতি ক্ষোভ বাড়ে রবিউলের।
তদন্তে জানা গেছে,গত ২১ জুলাই রাত ১১টার দিকে রবিউল নয়নীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান।নির্জন স্থানে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি নয়নীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।অভিযোগ অনুযায়ী,হত্যার পর মরদেহ ধর্ষণ করে লৌহজং নদীর তীরের ঝোপে ফেলে রাখেন।নয়নী নিখোঁজ হলে তার মেয়ে টুম্পা রাজবংশী থানায় অভিযোগ করেন।পরে রবিউলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই)রাশেদ ফজল জানান,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।আদালতে তাকে ৭দিনের রিমান্ড আবেদনসহ পাঠানো হলে তিনি হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।