
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে কেশবপুর উপজেলাজুড়ে। প্রতিমা নির্মাণের শেষ মুহূর্তের কাজ, মণ্ডপের সাজসজ্জা, দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। এ বছর উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১০২ টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা আর উৎসবের আগমনী আবহে উপজেলার বিভিন্ন জনপদে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ার পর থেকেই পূজামণ্ডপগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। মৃৎশিল্পীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমার শেষ পর্যায়ের কাজ করছেন। কোথাও চলছে রঙের প্রলেপ, কোথাও দেবদেবীর পোশাক ও অলংকার পরানোর প্রস্তুতি। পাশাপাশি মণ্ডপের সৌন্দর্য বাড়াতে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ।
মাটি, বাঁশ, খড় ও সুতলির কাঠামোয় প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ হাতে ফুটে উঠেছে দেবী দুর্গা ও তাঁর সন্তানদের প্রতিমা। দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা সাজিয়ে তোলার কাজও চলছে পুরোদমে। উৎসবের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে আয়োজকদের ব্যস্ততা। অন্যদিকে নতুন পোশাক কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজনের আগমন ও অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলো।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গোৎসব সুষ্ঠু, সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটি এবং উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দুলাল চন্দ্র সাহা জানান, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় পরিবেশে উৎসব উদ্যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদ্যাপনে প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাই যেন নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করবে।
এদিকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুর্গোৎসবকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। সব মিলিয়ে ১০২ টি পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কেশবপুরের আয়োজক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।