
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে মসজিদ ও ঈদগাহ উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দের অর্থ পুরোপুরি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও ঈদগাহ কমিটির দায়িত্বশীলদের দাবি, বরাদ্দের বিপরীতে তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে অর্ধেকেরও কম অর্থ। বিষয়টি তদন্ত করে বাকি অর্থের হিসাব বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা খাত থেকে দোড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দোড়া বিশ্বাসপাড়া জামে মসজিদের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা। তবে মসজিদটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল তাদের দিয়েছেন মাত্র ৫৭ হাজার টাকা।
একইভাবে চেয়ারম্যানের নিজ গ্রাম ছয়খাদা গ্রামের ঈদগাহ সংস্কারের জন্যও ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঈদগাহ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম মাস্টার জানান, চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫৫ হাজার টাকা।
এ ছাড়া রুদ্রপুর জামে মসজিদের জন্যও ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। মসজিদটির সভাপতি শাহাজান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ জানান, তারা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পেয়েছেন মাত্র ২৪ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও ঈদগাহ কমিটির দায়িত্বশীলরা বলেন, সরকারি বরাদ্দের অর্থ কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং অবশিষ্ট অর্থ কোথায় গেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে না দিয়ে থাকলে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, “আমি তালিকাভুক্ত মসজিদে টাকা কম দিয়ে অন্য মসজিদে বাকি টাকা দিয়েছি।” তবে চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যের সমর্থনে অন্য মসজিদে ওই অর্থ দেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহির হোসেনের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি অফিসে না থাকায় এবং মোবাইল ফোনে সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে বিতরণ ও ব্যয়ের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।