
নিজস্ব প্রতিবেদক
পল্লীকবি, জসীম উদ্দিনের “মামার বাড়ি কবিতা”
আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা, ফুল তুলিতে যায়। ফলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যায়। ঝড়ের দিনে মামার দেশে, আম কুড়াতে সুখ, পাঁকা আমের মধুর রসে রংগিন করি মুখ। যা আমের মুকুলের মাধ্য দিয়ে আগাম বার্তা দিয়ে যাচ্ছে।
তেমনি প্রকৃতির অপরুপ সাজে সেজেছে সবুজ রং এর পাতার মাঝে আমের মুকুল। যা বসন্তের ফুলের সঙ্গে নিজের সুগন্ধ সৌরভ ছড়াচ্ছে গাছে গাছে আমের মুকুল। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকুতির পরিবেশ। মনকে করে তুলছে আরো প্রাণবন্ত, আর দিয়ে যাচ্ছে মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে তুলেছে। আমের মুকুলের পরাগ রেনুকে ঘিরে মৌমাছি ভিড় করছে গাছে ডালে ডালে। যা আগাম আমের বার্তা দিয়ে যাচ্ছে।
পঞ্চগড় জেলাসহ পাঁচটি উপজেলাতেই দেখা মিলেছে আমের মুকুল। আমার গাছ যেনো “প্রকৃতির দান আর মাটির সন্তান” এ কথাটি যেমন সত্য তার ফুল, ফল তেমনিই সত্য বহন করে। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে বাহারি আমের মুকুল। ভরে উঠেছে মনোমুগ্ধকর এক প্রাণবন্ত প্রকৃতির। যা দেখলেই মন জুরিয়ে আসে।
অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরেও আমের ব্যাপক মুকুল লক্ষ করা যাচ্ছে। যদিও এবার ঠান্ডার মাত্রা অনেক বেশি ছিলো তার পরেও মুকুল বা ফুলের পরিমান বেশিই লক্ষ করা যাচ্ছে। বিভিন্ন আমের বাগন ঘুরে এটা লক্ষ করা যাচ্ছে।
লাভজনক হওয়ায় প্রত্যেক বছর যেন একটু হলেও বাগনের সংখ্যা বাড়ছে। সাথে সাথে বসত বাড়ির আশে পাশের যেনো আমের গাছ লাগাচ্ছে অনেকেই। যেহেতু আমের বাগান হতে অল্প পরিশ্রম দিয়েই অধিক ফলক আশা করা যায় বা পাওয়া যায়। তাই আম গাছ লাগনো পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্বাভাবিক জমি থেকে যে জমিগুলো একটু উচ্চু সেই জমি গুলোতেই আমের বাগান করা হচ্ছে।
জানা যায়, বড়ো বড়ো আমের বাগান গুলো আমের মুকুল আশার আগের অনেকে বাগান লিজ( চুক্তির মাধ্যমে) নিচ্ছে। যেখানে আমের বাগানের মালিককে কোনো টাকা খরচ করতে হয়না। এবং একটি সময়ের চুক্তির মাধ্যমে বাগান দিয়ে থাকেন। তাই বলা যেতে পারে আম অন্যান্য ফসলের মতোই একটা লাভ জনক।
তবে আমের বাগনে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় যেমন: মাঝে মধ্যেই আকাশে মেঘ জোমে বৃষ্টির আশংকা, কালবৈশাখী ঝড়, শীলা বৃষ্টি ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। কিন্তু আবহাওয়া যদি অনুকুলে থাকে তাহলে এ আশংকা হতে অনেকটাই নিরাপদ থাকা যায় বলে যানা আম চাষিরা। পরিবেশ পরিস্থিতি যতো অনুকুলে থাকবে আমের বাম্পার ফলন ততো আশা করা যাবে বলে যানা যায়। তবে ভালে ফলন পেতে হলে আমের নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। নিয়মিত স্পেরে করতে হয় বলে যানা যায় এর কোনো বিকল্প নেই।
আমের মানিকদের চোখে ভাসসে বিভিন্ন স্বপ্ন। আম্রপালী ল্যংডা, গোপালভোগ, ফজলি ও অন্যান্য আম। ইতোমধ্যে সব গাছেই আমের মুকুল এসেছে। শুধু ভালো ফলনের অপেক্ষা মাত্র।
যানা যায় যে, মুকুল আসার ও ফল ধরার সমটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। কাংখিত স্বপ্ন পুরন বা ফলন পেতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আম গাছে সময় মতো সেচ, সঠিক মাত্রায় সার, পোকামাকড় নিধনসহ বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন জাতিয় স্পেরে করার মাধ্যমে আমের গুটি রোধ রক্ষা করা। এবং সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা করা।