
রানা ইস্কান্দার রহমান
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গোবিন্দগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনী সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ঘটনায় বিস্ফোরক মামলায় ১১৮আসামীর জামিন নিতে এসে জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে উপজেলা নির্বাচন সহিংসতা মামলায় উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও কোচাশহর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান মণ্ডলসহ ১১৯ জনের জামিন নামঞ্জুর করে করাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
গত সোমবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে (চৌকি আদালত) ১১৮ জন আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থণা করেন। পরে বিচারক মো. নাজমুল হাসান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত সোমবার রাত ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. মিজানুর রহমান মিজান জানান, আদালতে হাজাতী একজন ও ১১৮ জন স্ব-শরীরে হাজির হয়ে আইনজীবির মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক শুনানী শেষে তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেন। অথচ ভোটের দিন সকাল ১১টায় ঘটনার কথা মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকলেও কোন আলামতও জব্দ করা হয়নি এবং আসামীর কেউ ভোটের পুলিং এজেন্ট ছিলো আবার কেউ এলাকায় ছিলেন না কিন্তু এসব বিষয় আমলে না নিয়ে আসামীদের জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত।
আদালতে শুনানী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবি ভবেশ চন্দ্র বলেন, একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় আদালত ১১৯ জনের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের জেরেই বাদী শহিদুল ইসলাম উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে মামলাটি দায়ের করেন। আসামিদের জামিনে জজ আদালতে আবেদন করা হবে।
উল্লেখ, দ্বিতীয় ধাপে গত ২১ মে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে সকাল ১১টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পাড়া কচুয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা, মারপিট, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে গত ২৫ মে রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা একটি মামলা করেন। ২০৩/২৪ নং মামলায় ১৩৩ জন নামীয় আসামী হলেও একই আসামির নাম দুইবার হওয়ায় ১৩১ জন মুল ও অজ্ঞাত ১০০/২০০ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে একজন আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
কারাগারে পাঠানো উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজ খানুন, পৌর যুবলীগের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, উপজেলা কৃষকলীগের দপ্তর সম্পাদক বোরহান উদ্দিন লেলিন, উপজেলা যুবলীগের সদস্য জলিল, কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশাদুল ইসলাম, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন সুমন, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রোকন আকন্দ সহ ১১৯ জন। এছাড়া মামলার এজাহার নামীয় ২০ থেকে ২৫ জন (মোটরসাইকেল) প্রতিকের কর্মী-সমর্থক হলেও বাকি আসামি সকলেই আওয়ামীলী ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
বাদীর অভিযোগ, উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আব্দুল লতিফ প্রধানের(মোটরসাইকেল) প্রতীকের কর্মীসমর্থক সংঘবদ্দ হয়ে তাহার বাড়িতে প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট, অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতিসাধণ ও ভয়ভীতি এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তার দুই কোটি পয়তাল্লিশ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে থানায় মামলা করেছি।