
,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি//
চেঙ্গী নদীর স্রোতের সঙ্গে কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে কিশোর মাইশিং ত্রিপুরা। নদীর কিনারে আজও ভেজা চোখে দাঁড়িয়ে আছে তার মা, পরিবার আর পাড়া-প্রতিবেশীরা।
১৮ বছর বয়সী এই কিশোর মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে একদিন।
কিন্তু এখনো ফেরেনি সে, নেই কোনো খোঁজ।
মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গাছবান অমৃত পাড়া এলাকায় ছোট ঝিরি থেকে মাছ ধরে ফিরছিল মাইশিং ও তার তিন বন্ধু। নদীর পানি সেদিন ছিল কিছুটা বেশি, প্রবল স্রোত বয়ে যাচ্ছিল চেঙ্গী নদীতে।
তার বন্ধুরা জানান,
“আমরা সবাই সাঁতরে পার হচ্ছিলাম। মাইশিং একটু পেছনে ছিল। হঠাৎ দেখি সে ডুবে যাচ্ছে। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাইনি।”
উদ্ধারে ব্যর্থ স্থানীয়রা, ডুবুরি দল এখনও চেষ্টা চালাচ্ছে
প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধার চেষ্টায় নেমেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয় প্রবল স্রোতের কারণে। পরে রাঙামাটি থেকে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে সন্ধ্যা থেকে অভিযান শুরু করে।
স্টেশন কর্মকর্তা মুকুল কান্তি নাথ জানান,
“আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত উদ্ধার না করতে পারি, ততক্ষণ এই অভিযান চলবে।”
নদীর পাশে অপেক্ষা করছেন, যেন এক পৃথিবী দুশ্চিন্তা:
মাইশিং ত্রিপুরা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গাছবান এলাকার অমৃত পাড়ার বাসিন্দা। বাবা তপন ত্রিপুরা এবং মা মুক্লুকটি ত্রিপুরার চার সন্তানের মধ্যে সে ছিল তৃতীয়।
পরিবারের কাঁধে ছিল দায়িত্ব, কাঁধে ছিল স্বপ্নও।
প্রতি ভোরে মাছ ধরতে যাওয়া, পাড়ার ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে সে ছিল প্রাণচঞ্চল এক তরুণ। আজ সেই বাড়ি নিস্তব্ধ। মুক্লুকটি ত্রিপুরা কাঁদতে কাঁদতে বললেন— “ও তো বলেছিল বিকেলের আগেই ফিরবে। এখনো ফিরছে না কেন?”
নিরাপত্তাহীন নদী পারাপারে নেই নজরদারি:
এই ঘটনাটি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়—পাহাড়ি জনপদের নদী পারাপার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
সাঁতার জানা তরুণও যখন নদীর স্রোতে নিখোঁজ হয়, তখন প্রশ্ন উঠে—নদীর এমন পয়েন্টগুলোতে কি কোনো সাবধানতা বা নিরাপত্তা ব্যাবস্থা থাকা উচিত নয়?
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাইশিংয়ের খোঁজ মেলেনি।
চেঙ্গী নদীর পাড়ে জড়ো হওয়া মানুষদের চোখে এখন শুধুই প্রার্থনা, হয়তো ফিরে আসবে মাইশিং।
পাহাড়ি নদীর বুক চিরে কোনো এক সময়ে হয়তো দেখা মিলবে তার—জীবিত কিংবা নিথর দেহে।
এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদ্যোগ জরুরি। নদী পারাপারের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা, সাইনবোর্ড, নৌকা চলাচল ব্যবস্থা কিংবা সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন একান্ত প্রয়োজন।