
বানারীপাড়া(বরিশাল) প্রতিনিধি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মলুহার গ্রামে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে শালিসি চলমান থাকা স্বত্বেও গাছের সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি সংঘটিত হয়েছে ৷ মারামারির ঘটনায় তারা একপক্ষ অপর পক্ষকে দোষারোপ করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।
বাদী(সংখ্যালঘু) পক্ষের অভিযোগ : সংখ্যালঘু পরিবারের কর্তাব্যক্তি শুনীল বালি বলেন আমি আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি সুপারি পাড়তে গেছি আমার বাপ-দাদার সুপারি এখন পাড়তে দেবে না। এখন আমারে বোস্তা-বিডা লইয়া ভারত চইল্লা যাইতে কয়, আমাদের ভারত পাডাইয়া দেবে। আমাগো বোলে কোনো জায়গা-জমি নাই এই কথা বলে পা পাছাইয়া একটা বাড়ি দেছে, আমার প্রচন্ড ব্যাথা করতেছে।
ইলুহার ইউনিয়নের মলুহার গ্রামের শুনীল বালির পুত্রবধূ বলেন জামাল সাহেবের স্ত্রী জামাল সাহেব এরা আমার শ্বশুরের হাত থেকে সুপারি নিয়ে গেছে ওই সময় মারামারি ঠেকাইতে গেছি তারপর আমারেও মাইর শুরু করছে। আমার শ্বশুরকে তো মারছেই, আমার দেওরকেও মারছে। এখন তারা কয় হিন্দু গো স্থান নাই তোরা বোস্তা-বিডা নিয়া কাছাইয়া কোছাইয়া ভারত চইলা যা, কালকেই ভারত পাডাইয়া দেবে এই ব্যাবস্থা নাকি তারা করতেছে। শুনীল বালির পুত্রবধূ আরও বলেন প্রথম দিকেই তারা আমার শ্বশুরের গায় হাত তোলতেছে, আমি বলছি ছাইড়া দেন হেরা বলতেছে কোনো ছাড়াছাড়ি নাই বলে আমার হাতে বাঁশের টুনি দিয়া বারি দেছে এই দেখছেন আমার হাতের অবস্থা।
শুনীল বালির ছেলে বলেন আমি মারামারি যখন ঠেকাইতে গেছি তখন লাঠি দিয়া আমারে মারতে আসছে তখন হাতাহাতি হয়। তার(বিবাদীর) ছেলে বাড়ি ছিলোনা পরবর্তীতে হঠাৎ বাড়ি এসে পিছন থেকে আমারে আক্রমণ করে।
বিবাদী(মোঃ জামাল) পক্ষের অভিযোগ : আমাদের যে জায়গা জমি নিয়ে ঝই-ঝামেলা চলতেছে তার জন্য শুনীল বালি বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দেছে। থানা থেকে দুপক্ষের উপস্থিতিতে বিচার-শালিসের ব্যাবস্থা করে দিছে যার ফোর ম্যান বাইশারী কলেজের প্রফেসর বিপ্লব স্যার। মারামারির জেরে বিবাদী মোঃ জামালের স্ত্রী ও ছেলে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
আপনাদের বিপক্ষে অভিযোগ রয়েছে আপনারা হিন্দুদের জায়গা-জমি ভোগ দখল করে খান প্রশ্নের জবাব মোঃ জামাল বলেন আমরা কোনদিন ভোগ দখল করে খাই না আমার বাপের জায়গাই এক কাঠা, আমাদের তো জায়গা নাই আমরা খামু কেমনে পরের তা। আমার বাপে যেটুকু রেখে গেছে সেটুক তো পামু। তিনি বলেন শালিসি চলতেছে ১ বার বইছে সামনে আবার বইবে, শালিসগন বলছেন এই অবস্থায় ওই জায়গায় কেউ কিছু করতে পারবেন না। তবে দুপক্ষের এই জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধে তার এই অভিযোগে এলাকাবাসীর রয়েছে ভিন্ন মত।
বিবাদীর ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম(১৮) বলেন আমি বাড়ি ছিলাম না আমি বাড়িতে আইসা দেখি জায়গা-জমি লইয়া দ্বন্দ্ব লাগে, হাতাহাতি হয। এক পর্যায়ে শুনীল বালি ও তার ছেলে আমারে মারধর করে এবং তার গায়ে কোপ লাগে বলে অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর ভিন্ন মত রয়েছে।