
জাবি প্রতিনিধি,
নারীবান্ধব ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
বুধবার(২৮ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে হেনস্তার শিকার এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বান্ধবীসহ তিনি চৌরঙ্গীর রাস্তা হয়ে হলে ফিরছিলাম। এমন সময় হলের রাস্তায় একজন পার হওয়ার সময় একজন আমার বুকে হাত দিয়ে দৌড় দেন। রাস্তায় পর্যাপ্ত আলো না থাকায় তাঁকে চিনতে পারেননি। এরপর ভিসির বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষা করেও তাঁকে স্পষ্ট দেখা পায়নি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
সমাবেশে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী প্রাপ্তি তাপসী বলেন, ‘২৫ আগস্ট আমাদের এক ছোট বোন হলে যাওয়ার পথে নিপীড়নের শিকার হয়েছে। আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা দুর্বল হলে হলের রাস্তায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে! নিপীড়কদের চিহ্নিত করার জন্য প্রান্তিক গেটে গেলে সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া যায়নি। ২০ মাইল এলাকার গেটগুলোয় নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন না। ভুক্তভোগী ছাত্রী ফেসবুকে পোস্ট করার পর জানতে পেরেছেন, গত সপ্তাহেও একজন এ রকম যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এপ্রিলেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি, ছাত্র অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাস্তবতার তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতাকে কলঙ্কিত বা অস্বীকার করার জন্য, এই সময়ে নারী শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ নয়, তা প্রমাণ করার জন্য কোনো কোনো মহল তৎপর হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্যাম্পাসে বর্তমানে যেহেতু কোনো প্রশাসন নেই, তাই আমাদের নিরাপত্তার জন্য, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদেরই পদক্ষেপ নিতে হবে।’
উল্লেখ্য সরকার পতনের পর গত ৬ই আগস্ট পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবির। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোন প্রক্টরিয়াল বডি। প্রশাসন বিহীন ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা।