
স্টাফ রিপোর্টারঃ নীলফামারীতে বিএনপি নেতা রব্বানী হত্যার ১১ বছর পর নীলফামারী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরসহ আ.লীগের ৪১জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন বিএনপি নেতা মৃত গোলাম রব্বানীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম।
রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞ আমলী আদালত, নীলফামারী-১ এ মামলা দায়ের করে সুবিচার প্রার্থনা করেন তিনি (যার মামলা নম্বর-৪৫১/২৪)।
আরজি সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বরে জেলা সদরের রামগঞ্জ বাজারে সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নুরের গাড়ী বহরে হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতা গোলাম রব্বানীকে আসামীর শ্রেণীভুক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নিজ বাড়ীতে গোলাম রব্বানীকে না পেয়ে বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আরজিতে উল্লেখিত আসামীর শ্রেণীভুক্তরাসহ অজ্ঞাত নামা আরো ১ হাজার জন। নিজের জীবন বাঁচাতে পরিবার ছেড়ে আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর। গত ২০১৪ সালে ১৮ জানুয়ারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ীস্থ নীলফামারী থেকে ডোমার সড়কের পাশে বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার করা হয় বিএনপি নেতা গোলাম রব্বানীর লাশ।
উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- নীলফামারী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মমতাজুল হক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুজার রহমান, সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনিরুল হাসান শাহ আপেল, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ সরকার প্রমুখ।
মামলার বাদী বিএনপি নেতা মৃত গোলাম রব্বানীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম জানান, “আমার স্বামী মৃত গোলাম রব্বানী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। নীলফামারী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের গাড়ী বহরে হামলার ঘটনায় আমার স্বামী গোলাম রব্বানীকে আসামী করে থানায় মামলা করা হয়। ফলশ্রুতিতে ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় আরজিতে আসামীর শ্রেণীভুক্তরাসহ প্রায় ১ হাজার লোকজন মিলে আমার বাড়ীতে আমার স্বামীকে খুঁজেতে আসে, না পেয়ে আমার বাড়ীতে লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এমনকি আসামীরা আমার স্বামীকে মেরে ফেলারও হুমকী দেয়। আমার স্বামী মৃত গোলাম রব্বানী প্রাণের ভয়ে পঞ্চগড় জেলাস্থ এক আত্মীয়ের বাড়ীতে নিজেকে আত্মগোপন করেও শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর “।
কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তিনি আরোও বলেন, “২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারী পঞ্চগড়স্থ ওই আত্মীয়ের বাড়ীতে নীলফামারী সদর থানার পুলিশ ও র্যাব পরিচয়ে আমার স্বামী মৃত গোলাম রব্বানীকে তুলে যায়। আমি জানতে পেরে নীলফামারী থানা, রংপুর র্যাব ক্যাম্পসহ বিভিন্ন স্থানে আমার স্বামী মৃত গোলাম রব্বানীকে খোঁজ করার এক পর্যায়ে ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়ন সংলগ্ন নীলফামারী থেকে ডোমার সড়কের পাশে বাঁশঝাড় হতে আমার স্বামীর মৃত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আমার স্বামীকে হারিয়ে আমি আমার ছোটছোট বাচ্চাদের নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ি। কিন্তু আরজি উল্লেখিত আসামীরা আমাকে ও আমার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে। ফলে আমি ছোটছোট বাচ্চাদের নিয়ে ৬/৭ মাস আত্মগোপনে থাকি। যারা আমার স্বামীকে হত্যা করে ছোটছোট বাচ্চাদের এতিম বানিয়েছে আমি তাদের বিচার চাই”।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মামলার বাদী শাহনাজ বেগম জানান, “নীলফামারী জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মমতা এঁর মাধ্যমে মামলাটি দাখিল করেছি”।
প্রসঙ্গত: নীলফামারী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর মিরপুর থানার একটি মামলায় এজাহার নামীয় আসামী হওয়ায় রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) ১১টায় বেইলি রোডের নওরতন কলোনি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এছাড়াও গেল ৪ আগস্ট নীলফামারী জেলা বিএনপি ও সেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগসহ জেলা শহরের বিভিন্ন জায়গায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটতারাজের মামলায় আসাদুজ্জামান নূরকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম বাবলা।
এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী সৌমিক হাসান সোহান এর দায়ের করা মামলায় আন্দোলনকারীদের হত্যার উদ্দেশ্য গুলির নির্দেশদাতা হিসাবেও ১ নম্বর আসামীর শ্রেণীভুক্ত হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।