
বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার ১ নং বিবিচিনি ইউনিয়ন ফুলতলা গ্রামের ফুলতলা মোহাম্মাদিয়া আলিম মাদ্রাসায় প্রধান শিহ্মক মাওলানা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বিরুদ্ধে বিগত বছরগুলোতে নানান অভিযোগ মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত শিহ্মাথীদের পিতা-মাতার। অত্র মাদ্রাসার প্রধান শিহ্মক মাওলানা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বিরুদ্ধে তার নিজের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা চলমান।

সাবেক ও বর্তমান সভাপতি মোঃ মাসুম বিস্বাস এর সাথে মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের সাথে ঘনিষ্টতা থাকায় তারা একত্রে ফুলতলা মোহাম্মাদিয়া আলিম মাদ্রাসায় কর্মকর্তা নিয়োগ কালে সভাপতি তার আপন ছোট ভাই , তার মামতো ভাই ও তার চাচাতো ভাইয়ের বউ সহ নিকটতম ২ ব্যাক্তিএর চাকুরী নিয়োগ চুরান্ত করেন। নিয়োগ চুরান্ত কালে অন্য প্রার্থীরা নানান অভিযোগ করেন তাদের ফলাফল নিয়ে। চাকুরী পরিহ্মাথীরা পরবর্তীতে প্রধান শিহ্মক মাওলানা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান কাছে তাদের পরীক্ষার ফলাফল জানতে তাদের পরীক্ষার ফলাফল জানাতে অশ্বিকার করেন। সাবেক ও বর্তমান সভাপতি ও প্রধান শিহ্মকের নিয়োগ কর্মকাণ্ডে এলাকায় মারপিট হয় পরে তা স্থানীয় ব্যাক্তিদের মাধ্যমে মিমাংসা হয়। ২০২৪ সালের গভর্ণি বডির মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুনরায় গভর্ণি বডির নিয়োগ কালে ফুলতলা মোহাম্মাদিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রধান শিহ্মক মাওলানা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান নিজে নাদিয়া সুলতানা এমপি বরগুনা ২ এর নিকট যায় মোঃ মাসুম বিস্বাসকে সভাপতি পদ প্রদান করার মতামত প্রকাশ করেন তখন নাদিয়া সুলতানা এমপি বলেন আমি ফুলতলা মোহাম্মাদিয়া আলিম মাদ্রাসা সম্পর্কে তেমন কিছু জানিনা আপনি স্থানীয় কর্তা ব্যাক্তিদের সাথে আলোচনা করে একটি রেজুলেশন আকারে আদর্শবান ব্যক্তিকে সভাপতি পদে নির্বাচন করতে বলেন।

উক্ত মাদ্রাসার প্রধান শিহ্মক মাওলানা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান নাদিয়া সুলতানা এমপি বরগুনা ২ এর নির্দেশ সম্পুর্ণ অমান্য করে এক/ দুইজন টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে একটি একটি ফেক রেজুলেশন তৈরি করেন ও পরবর্তী সময়ে ঢাকায় অবস্থানরত মোঃ মাসুম বিস্বাসকে সভাপতি করার প্রস্তাবে নাদিয়া সুলতানা এমপি বরগুনা ২ এর নিকট সুপারিশ নেন। নাদিয়া সুলতানা এমপি মোঃ মাসুম বিস্বাসকে সুপারিশ করার পর ফুলতলা মোহাম্মাদিয়া আলিম মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও সদস্যরা নাদিয়া সুলতানা এমপি কে প্রধান শিহ্মক মাওলানা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের এমন জালিয়াতির বিষয় জানালে তখন এমপি তা খোজ খবর নিয়ে জানতে পারেন জালিয়াতির বিষয়টি সত্য। নাদিয়া সুলতানা এমপি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিহ্মা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত দরখাস্ত করেন তিনি উক্ত দরখাস্তে বিষয় উল্লেখ করেন “বরগুনা জেলা বেতাগী উপজেলার সদ্য সুপারিশকৃত ফুলতলা মোহাম্মাদিয়া আলিম মাদ্রাসার গভার্ণি বডির সভাপতি পদ স্থগিত করুন মাদ্রাসা প্রিন্সিপালের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রদান প্রসঙ্গে ” উক্ত দরখাস্তে জালিয়াতির কর্মকান্ড উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে ফুলতলা মোহাম্মাদিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রধান শিহ্মক মাওলানা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে চায়নি।
নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন আমি ওইখানে চাকরির জন্য পরীক্ষা দিয়েছিলাম এবং এই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আমার কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা নেন চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিন্তু আমি ওইখানে পরীক্ষা দিলে আমার পরীক্ষার ফলাফল আমাকে দেওয়া হয়নি বা জানানোও হয়নি,
আরেক ভুক্তভোগী বলেন আমার ছোট বোনকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল আমার কাছ থেকে বেশ মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় এই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক পরবর্তীতে সেই টাকার বিষয়টা সে অস্বীকার করে এবং আমার বোনের চাকরিও দেয়নি এবং টাকাও ফেরত দেয়নি, মাদ্রাসার মত একটি পবিত্র জায়গায় যদি এই ধরনের নোংরামি দুর্নীতি হয় একজন শিক্ষকের চরিত্র যদি এতটা অনৈতিকতায় ভরপুর হয় তাহলে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রছাত্রীরা কি শিখবে।
বেশ কয়েকজন অভিভাবক ভোরের বাংলা নিউজকে বলেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সভাপতি এই দুইজন মিলে মিশে মাদ্রাসাকে লুটপাট করে খাচ্ছে, যার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন অভিভাবক বৃন্দ স্থানীয় সংসদ সদস্যর কাছে অভিযোগ জানানোর পরে তিনি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন সংসদ সদস্য তার নামে মিথ্যা অভিযোগের সুপারিশ করেছে যা বানোয়াট, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
গভর্নিং বডি সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।