
বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ-
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ধর্মপ্রাণ শিক্ষার্থীরা সাধারণ মুসলিম শিক্ষার্থীদের মাঝে থার্টি ফার্স্ট নাইট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
থার্টি ফার্স্ট নাইট ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ধর্মপ্রাণ শিক্ষার্থীরা গত দুইদিন যাবৎ ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মসজিদের দুই গেটের সামনে পড়ার জন্য সচেতনতামূলক লিফলেট এবং আজ একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের সামনেও পড়ার জন্য এসব লিফলেট রেখেছিল। এছাড়াও তারা বিভাগ ভিত্তিক শিক্ষার্থীদের কাছে এসকল সচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে থার্টি ফার্স্ট নাইটের খারাপ দিক গুলো নিয়ে আলোচনা করেছে।
লিফলেটে: তুমি রাসূল (সা.)-কে ভালোবাসার কথা বলো। সেই তুমিই আজ কেন রাসূল (সা.) এর নিষেধ অমান্য করছ? তিনি কি মদীনায় এসে মুসলিমদের জন্য উৎসবের দিন হিসেবে কেবল দুই ঈদকে নির্ধারণ করে দেননি? তিনি কি বলেননি যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তাদের দলভুক্ত” তুমি কি জানো না নিউ ইয়ার পালন করা বিধর্মীদের উৎসব? কেন তুমি খৃস্টান আর পৌত্তলিকদের উৎসব পালন করছো, মদ খাচ্ছ, গান বাজাচ্ছ, বাজি পুড়াচ্ছ, যিনা করছ? কেন এমন প্রতারণা করছ? চিরকাল কি তুমি বেঁচে থাকবে? তুমি মরবে না? কেমন হাশর হবে তোমার? আল্লাহর সামনে কিভাবে দাঁড়াবে? এসকল বিষয়সহ আরো বেশ কিছু বিষয়ে সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়।
এ বিষয়ে গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, “৩১শে ডিসেম্বর, যা মূলত পৌত্তলিক সংস্কৃতি থেকে খ্রিষ্টান ধর্মের মাধ্যমে ইউরোপ হয়ে আমাদের উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যা বর্তমানে থার্টি ফার্স্ট নাইট হিসেবে পালন করা হয়।আল্লাহ তায়ালা আমাদের নিষেধ করেছেন বিধর্মীদের অনুকরণ না করতে।রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ, অনুসরণ ও সামঞ্জস্য বিধান করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে”। তাই একজন মুসলিম হিসবে আমাদের উচিৎ এগুলো থেকে বিরত থাকা।এছাড়া আমরা বিগত বছরগুলোতে দেখেছি এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ফানুশ উড়ানো,আতশবাজি এসবের ফলে নানা ধরনের ক্ষতি হয়।২০২২ সালের জানুয়ারিতে পটকা-আতশবাজির উচ্চশব্দে ছোট্ট উমায়ের হার্ট এট্যাক করে মারা যায়। একবার ভাবুন তো,উমায়ের আপনার ছোট্ট ছেলেটা কিংবা আপনার অতি আপনজন কেউ!এছাড়া প্রতিবছর ফানুশের আগুনে মানুষের ঘড়বাড়ি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।”
তিনি আরো বলেন, “তাই উৎসবের আড়ালে এসব ভয়াবহতার বিষয়ে সচেতনার উদ্দেশ্যে আমরা ক্যাম্পাসে লিফলেট বিতরণ ও ক্যাম্পেইন করি। গত দুইদিনে ক্যাম্পেইনের আওতায় শিক্ষার্থীদের লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহ বুঝ দান করুন।”