
ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
জুলাই আন্দোলনে মৃত্যুর ৭ মাস পর
বাবা হলেন নিহত সেলিম।
ছাত্রজনতার আন্দোলনে নলছিটির বাসিন্দা নিহত সেলিম তালুকদারের (২৮) স্ত্রী সুমী আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে আজ শনিবার রাত ৮ টার দিকে।ঝালকাঠি শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তিনি এই সন্তান জন্ম দেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সুমী আক্তারের শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান পৃথিবীতে আসে কিন্তু পরিতাপের বিষয় সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারেননি সন্তানের পিতা সেলিম। মৃত্যুর সাত মাস সাতদিন পর সেলিম পিতা হলেন।
নবজাতক জন্মের পরে আনন্দের পরিবর্তে শোকার্ত আহাজারি ও বিলাপে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। সবাই স্মৃতিচারণ করে আন্দোলনে নিহত সেলিম তালুকদারের অনুপস্থিতি স্মরণ করেন।অপারেশন থিয়েটার থেকেই বের করতেই নবজাতক দুচোখে টলটলিয়ে এদিক সেদিক তাকাচ্ছে। নিজ হাত মুখে দিচ্ছে। দাদি কোলে নিলেন তার নাতনিকে কোলে নিলেন। সন্তানের মা সুমীকে তখনো অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করা হয়নি। এ সময় নবজাতক কান্না শুরু করল। তখনই নবজাতকের কান্নার সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয় স্বজন সবাই কেঁদে উঠলেন। সময় ক্লিনিকের বেদনা বিধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নিহত সেলিম বিজিএমই ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে আড়াই বছর আগে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরে নারায়ণগঞ্জে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সহকারী মার্চেন্ডাইজার পদে চাকরি শুরু করেন। তারা তিন বোন ও এক ভাই। সেলিম ছিলেন মেজ।
নিহত সেলিম ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হন।
গত ৩১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহত হন নলছিটি উপজেলার মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা সেলিম তালুকদার। ৩১ জুলাই রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ২ আগস্ট সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয় সেলিমকে।
এর তিনদিন পরই ছিল (৪ আগস্ট) প্রথম বিবাহবার্ষিকী। ৮ আগস্ট পরীক্ষায় ধরা পড়ে সেলিমের স্ত্রী সুমী আক্তার অন্তঃসত্ত্বা।
সেলিমের স্ত্রী সুমী জানান, ওইদিন সকালে বাড্ডা লিংক রোডের কুমিল্লাপাড়ার বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেন সেলিম। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষের মধ্যে আটকে পড়েন তিনি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন।
সুমী আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী শহিদ হয়েছেন। তার স্মৃতি হিসেবে এই সন্তানই আমার কাছে থাকবে। আমার একটাই চাওয়া আমার সন্তানকে যেন কারও কাছে হাত পাতা না লাগে। আমি যতদিন বাঁচব শহিদ সেলিমের স্ত্রী হিসেবে বাঁচব। সন্তানকে তার পরিচয় দেব।’
বেদনাসিক্ত মা সেলিনা বেগম ছেলের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দাবি করে বলেন বলেন, এখন যদি সেলিম বেঁচে থাকত তাহলে প্রথম সন্তান, কত আনন্দ পেত। তা সেলিমের ভাগ্যে নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলের চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১৮ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। ধারদেনা করে এসব টাকা জোগাড় করেছি। সেই টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। আমরা চাই আমার ছেলেকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হোক।’