
যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ আল আমিন
পৃথিবীজুড়ে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে ৩০তম বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। এই বিশেষ দিনটি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করেছে। বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ) এর নেতৃত্বে দিবসটি দেশের ১২৯টি দেশে পালিত হলেও, যবিপ্রবিতে এ বছর এটি একটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ এর আয়োজনের মধ্যে ছিল র্যালি, স্বাস্থ্য ক্যাম্প, বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের জন্য এক্সারসাইজ সেশন, সেমিনার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কার্যক্রম। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যা ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ে পেশাগত স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করছে। এই বিভাগের অবদান জাতির জন্য অনস্বীকার্য, এবং আমি আশা করি ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান করে যে ভূমিকা পালন করছে, তা প্রশংসনীয়। আমাদের কাজের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নত করতে হবে এবং ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে আমরা তা সম্ভব করছি।”
এছাড়াও, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে, প্রবীণদের নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে দেশবরেণ্য লেখক ও গবেষক জনাব হাসান আলীর নেতৃত্বে আলোচনা হয় “কেন যৌবনে সুস্থ বার্ধক্যের প্রস্তুতি জরুরি?” শিরোনামে। সেমিনারে অধ্যাপক শরীফ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং নবীনদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সভাপতি ডা. এহসানুর রহমান অনুষ্ঠানের সফলতা সম্পর্কে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আজকের এই দিনটি শুধু একটি দিবস উদযাপন নয়, এটি আমাদের দায়িত্বশীলতা, মানুষের জন্য কাজ করার শক্তি এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
এছাড়া, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাফিরুল ইসলাম, প্রক্টর ড. মো. ওমর ফারুক, যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রালটেন্ট ডা. বাপ্পী কবিশেখর এবং প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দীপক কুমার মন্ডল।
ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সদস্যরা এই দিবসকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে অসামান্য কাজ করেছেন, এবং তাদের এই প্রচেষ্টা দেশবাসীর জন্য সত্যিই গর্বের বিষয়। আজকের আয়োজন শুধু দিবসটির গুরুত্বই তুলে ধরেনি, বরং ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে মানুষের জীবনে কীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব, তা পুনরায় প্রমাণ করেছে।
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের এই আয়োজনের মাধ্যমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এক নতুন উদাহরণ স্থাপন করল, যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি মানবতার সেবাও অব্যাহত থাকবে।