
রিয়া মনি
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় রেশমি আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবার এই ঘটনাকে আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পাঁচ বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল এবং তার তিন বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ঘটনার আগের রাতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয় এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।
ঘটনার দিন সকাল ছয়টার দিকে রেশমির স্বামী রেশমির বাবার বাড়িতে ফোন করে মৃত্যুর খবর দেন। পরিবার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে, রেশমি ঘরের ভেতর বাঁশের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে। তাদের দাবি, মরদেহের হাত-পা একেবারে ঠান্ডা ছিল, যা থেকে তারা ধারণা করছে—তার মৃত্যু আরও আগেই হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, রেশমির শাশুড়ি ও দেবর প্রায়ই তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে মেডিকেল রিপোর্টও রয়েছে। আগেও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগ মীমাংসার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে দাবি তাদের।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে প্রথমে খবর দেন বাড়ির মালিক। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরিবার আরও জানায়, অতীতেও একবার আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে রেশমির স্বামী তার হাত কেটে দিয়েছিল, যার প্রমাণস্বরূপ থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল।
যদিও স্থানীয়রা রেশমির স্বামী আলতাব রশিদকে ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে জানেন, নিহতের পরিবারের ভাষ্য—এটি ছিল “সামাজিক মুখোশ”। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের সহিংসতার জেরেই এই মৃত্যু ঘটেছে।
ঘটনার পর আলতাব রশিদকে পুলিশ আটক করেছে এবং তার জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও এখনো প্রকাশিত হয়নি।
রেশমির পরিবার এই মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।