
লোহাগাড়া উপজেলা প্রতিনিধি:-
‘বাবাকে খুঁজে আর লাভ নাই। দুজনই প্রাণ হারিয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় আজ ১০ জন নিহতের মধ্যে আলৌকিনভাবে বেঁচে যাওয়া বাচ্চা মেয়েটা তার ছোট হাত দিয়ে আমার আংগুল পেঁচিয়ে ধরেছে। কাতরস্বরে অনুরোধ করছে, “আমার মা কই? তুমি আমাকে কোলে নাও, তুমি আমাকে কোলে নিবা”।
প্রবল ইচ্ছে জাগলেও উপায় নেই। এক্সরেতে পরিস্কার দেখা যাচ্ছে, ৬ বছরের আরাধ্য বিশ্বাসের দুইটা পা’ই ভেংগেছে।
তার মা-বাবা দুজনই স্পট ডেড। একইসাথে এক মামা, ফুফু মারা গিয়েছে বলে শুনছি।
অশ্রু চেপে রেখে জবাব দিলাম, ‘অবশ্যই নিবো মা, তোমাকে একটু পরেই আমরা কোলে নিবো”।
কুস্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই আরাধ্য বিশ্বাসের বাড়ী। বাবা দিলীপ বিশ্বাস একটা ওয়াশিং মেশিনে জব করতেন। মা গৃহিনী। মারা যাওয়া মামাটা একটা ফ্যান কোম্পানির মেকানিক।
ফুফুর সাথে ঈদের বন্ধে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিল। আসার পথে লোহাগাড়া চুনতি জাংগালিয়াতে বাস-হাইয়েস মুখোমুখি সংঘর্ষে এ করুণ দূর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৮ নং ওয়ার্ডে আরাধ্য এখন চিকিৎসাধীন আছে। আরাধ্যের এক মামা এখন চট্টগ্রামের পথে। আরেক মামার সাথে বিস্তারিত কথা হলো।
হাসপাতালের বেড়ে শুয়ে কঁচি হাত দিয়ে আমার ডান হাতের আংগুলটা পেঁচিয়ে ধরে করুণসরে বলা ছোট্ট মেয়েটার কন্ঠটা বড্ড কানে বাজছে,
” তুমি আমাকে কোলে নাও, তুমি আমাকে কোলে নিবা”।
ছোট্ট আরাধ্য বিশ্বাস সুস্থ হলে তার পড়ালেখার যাবতীয় দায়িত্ব নিবে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন ইনশাআল্লাহ! এই মুহূর্তে চিকিৎসার জন্য কোন সহযোগিতা লাগলে আমরা তোমার পাশে আছি, আরাধ্য।