
পাটগ্রাম প্রতিনিধি
যে-সব তরুণদের নিয়ে পাটগ্রাম উপজেলা মানুষ গর্ব করতে পারে, তাদের মধ্যে সুমন ইসলাম একজন।
বিনামূল্যে রক্তদান ও রক্ত সংগ্রহ করে অসহায় মূনুষ্য রোগীর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসা এক মানবিক স্বেচ্ছাসেবীর নাম।
সব্যসাচী ঘরানার এ কর্মবীর মানুষটি জীবনের প্রতিটি কাজে রেখেছেন অসাধারণত্বের ছোঁয়া, কৈশোরের শুরু থেকেই তিনি একজন সাফল্য স্বেচ্ছাসেবীর পরিচয় বহন করে আসছেন।
এটাই তার একমাত্র নেশা। লালমনিরহাট জেলা পাটগ্রাম উপজেলা পৌর ২ নং ওয়ার্ড সোহাগপুর কদমতলি, মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোছা:মনোয়ারা বেগম দম্পতির ছেলে মোঃ সুমন ইসলাম। পিতা দিনমজুর পিতাকে সাহায্য করতে অল্প বয়সে পরিবারের দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে আসে জিএসসি পাস করে উপজেলার কাপড়ের শোরুমে
২০১৮ সাল থাকে সুনামের সাথে কাজ করে আসছে, পাশাপাশি নেশা হিসেবে যুক্ত রয়েছেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে সঙ্গে। কাজের পাশাপাশি শত ব্যস্ততার মধ্যে কখনো রক্তের জন্য ছুটাছুটি করেন, আবার কখনো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, এইজন্যই তিনি পাটগ্রামে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি রক্ত কণিকা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাটগ্রাম , সহ আশেপাশের উপজেলা, জেলা, বিভাগের আরো অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যুক্ত রয়েছেন। মোঃ সুমন ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন।
শুরুতে মানুষের সমথর্ন না পেলেও এখন প্রতিনিয়ত সকলের সমথর্ন ও সহযোগিতা, অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।
এবং সব থেকে বেশি
উক্ত সংগঠন এর উপদেষ্টাদের দিকনির্দেশনা সহযোগিতা ও সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম সহযোগিতা ও ভালোবাসায়।
তিনি আরও বলেন আমি আমার সাধ্যমত গরিব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে, প্রতিটি ঘরে ঘরে একজন করে রক্ত যোদ্ধা তৈরি করতে এই দেশকে যে অবস্থায় পেয়েছি তার চেয়ে সুন্দর অবস্থায় রেখে যেতে এবং মানবিক একটি সমাজ গড়ার উদাহরণ সৃষ্টি করতে চাই। নাগরিক হিসেবে অপর একজনকে সাহায্য করা আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব মধ্যে পড়ে। স্বেচ্ছাসেবী কাজের শুরুর গল্প জানতে গিয়ে মোঃ সুমন ইসলাম বলেন, ২০২০ সালের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিনামূল্যে রক্তদান ও রক্ত সংগ্রহ কাজের সাথে সম্পর্কিত হয়েছি। একটি দেশের অর্থ সামাজিক অবস্থা থেকে শুরু করে প্রায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়ে কাজ করে থাকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। দেশের সংকটময় মুহূর্তে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর কাজ আমাকে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করেছে এই কাজে যুক্ত হতে।
প্রথমবার এক শুভাকাঙ্ক্ষী জন্য ব্লাড খুঁজে গিয়ে তিনি অনেক ভোগান্তি শিকার হন, দ্বিতীয়বার রংপুর মেডিকেল এ আমি প্রথম রক্তদান করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে পা রাখি। পরে আস্তে আস্তে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে মানব সেবার কাজে জড়িয়ে যাই। ব্লাড সংগ্রহ করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পাটগ্রাম উপজেলায় (রক্ত কণিকা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ) প্রতিষ্ঠাতা করে সাথে আরো অনেক সংগঠনের সাথে যুক্ত হই। এবং মানবসেবা করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করি যাতে করে অতি সহজেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।
তিনি বর্তমানে রক্ত কণিকা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক,ও হাতিবান্ধা পাটগ্রাম সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন এর পাটগ্রাম পৌর শাখার সহ সভাপতি, বাংলাদেশ ব্লাড ডোনার ফাউন্ডেশন রংপুর বিভাগীয় শাখার ব্লাড ক্যাম্পিং সম্পাদক,
বাংলাদেশ ব্লাড ব্যাংক বিবিসি লালমনিরহাট জেলা শাখার সহ-সভাপতি, EYE DONATION BD চক্ষুদানের ভলান্টিয়ার, BD Clean Rangpur ভলান্টিয়ার,
তারুণ্যই শক্তি YS ( Youthfulness Strength) এর নারী স. সচিব, পাটগ্রাম বাজার শ্রমীক সংগঠন এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন আমৃত্যু মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই, গঠন করতে চাই এক মানবিক বাংলাদেশ।
এবং নিজেকে একজন স্বেচ্ছাসেবী ও অসহায় মানুষের বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।