
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
ঢাকার কেরানীগঞ্জে মায়ের হাতে প্রাণ গেছে মাত্র দেড় বছরের শিশু আব্দুর রহমানের। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কলাতিয়া ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামের বটতলা এলাকায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, প্রায় দুই বছর আগে আতিয়া শারমিন একই গ্রামের টুটুল নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে করেন। বিয়ের আগে থেকেই তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন তিনি। শনিবার রাতে সন্তানকে নিয়ে ঘুমাতে যান এবং গভীর রাতে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।
ঘটনার পর আতিয়া চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা ঘরে গিয়ে শিশুর নিথর দেহ দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং শিশুর মরদেহ এক নজর দেখার চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরু মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল হক ডাবলু বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিশুটির মা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, আতিয়া দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক কলহও চলছিল। এ ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিশুর বাবা টুটুল সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে। আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না। আশা করি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোন পরিবারের সন্তানকে এভাবে হারাতে হবে না।”