
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া পৌর এলাকার বিসিআইসি ও বিএডিসির সার ডিলার মেসার্স আর এস এন্টারপ্রাইজের মালিক সুভাশিষ কুন্ডুকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই ) বিকাল ৩ টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা। অভিযানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শেখ সালমান জামান উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শেখ সালমান জামান জানান, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মেসার্স আর এস এন্টারপ্রাইজের গুদামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হিসাব অনুযায়ী যেখানে ২৩০ বস্তা এমওপি সার থাকার কথা, সেখানে ২৮১ বস্তা এমওপি সার পাওয়া যায়, অর্থাৎ ৫১ বস্তা অতিরিক্ত পাওয়া যায়। এছাড়া নিবন্ধনের বাইরে আরও ৮ বস্তা ডিএপি সার পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, “নিবন্ধন বহির্ভূত সার মজুত রাখার অপরাধে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ সালমান জামান বলেন, গত শুক্রবার ৪০ বস্তা সরকারি সার জব্দ হওয়ার ঘটনাটি বর্তমানে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন রয়েছে। ওই ঘটনার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সাংবাদিকরা উল্লেখ করেন, জব্দ হওয়া সার বহনকারী নসিমনের চালক দাবি করেছেন, সারগুলো সুভাশিষ কুন্ডুর গুদাম থেকে গোপালগঞ্জে নেওয়া হচ্ছিল।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলেন, “নসিমন চালক সাংবাদিকদের সামনে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে আমলে নিয়েই তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আইন অনুযায়ী দোষী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজে সরকারি সার পাচারের অভিযোগ প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হয় এবং অতিরিক্ত ও নিবন্ধনবহির্ভূত সার মজুতের অভিযোগে ডিলারকে জরিমানা ও গুদাম সিলগালার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্তাধীন ৪০ বস্তা সার জব্দের ঘটনাটিও পৃথকভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।