
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাবিরাট সাঁওতাল পল্লীতে শনিবার দুপুরে আয়োজিত স্মরণসভায় অকালপ্রয়াত সাঁওতাল নেত্রী প্রিসিলা মুরমুকে স্মরণ করা হয় গভীর শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায়।
গোবিন্দগঞ্জ রাজাবিরাট মানঝি পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় প্রিসিলা মুরমুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মানঝি পরিষদের সভাপতি বৃটিশ সরেন। এতে বক্তব্য রাখেন প্রয়াত প্রিসিলার স্বামী শফিকুল ইসলাম, বাবা লুকাস মুরমু, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাসকে, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, সমাজকর্মী মনির হোসেন সুইট, সাইদা, আদিবাসী নেত্রী অঞ্জলি মুরমু, শ্যামবালা হেমব্রম, থমাস হেমব্রম, মাইকেল মুরমু, সাহেব মুরমু, মিন্টন মার্ডি, শ্যামলী টুডু, জয়ন্ত হাসদা, মোর্শেদ হাসান দীপনসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন,
কিছু মানুষ চলে যায়, কিন্তু তাদের ছায়া থেকে যায় মানুষের হৃদয়ে। প্রিসিলা মুরমুও তেমনই এক সংগ্রামী নারী—যিনি জীবনের প্রতিটি ধাপে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন, লড়েছেন আদিবাসীদের ভূমির অধিকার ও মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকারের জন্য। তিনি মানুষের হৃদয়ে চিরদিন অম্লান থাকবেন।
তাঁরা আরও বলেন, আন্দোলনের নিবেদিত প্রাণ প্রিসিলা মুরমু ছিলেন আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার অগ্রণী নেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে আদিবাসী সমাজ হারিয়েছে একজন সাহসী কণ্ঠস্বর, একজন সত্যিকারের নেত্রীকে। তাঁর আদর্শ ও কর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তাদের কণ্ঠে একটাই অনুভব-প্রিসিলা মুরমু ছিলেন নির্লোভ, নির্ভীক, আর লড়াকু এক প্রাণ। তিনি ছিলেন সাঁওতাল জনগণের সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক।
উল্লেখ্য, সাঁওতাল নেত্রী প্রিসিলা মুরমু গত ১৫ অক্টোবর বুধবার মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।