
রাবি প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রথম বর্ষের (২০২৩-২৪ সেশন) শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ এর অন্তর্ভুক্ত শিক্ষার্থীদের দুটি পর্বে বরণ করেছে রাবি শাখা ছাত্রশিবির। রাজশাহী মহানগরীর বিনোদপুরে তাদের নিজস্ব ওয়েলফেয়ার ভবনে এ নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল মোহাইমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন – যদি প্রশ্ন করি আজ থেকে ৩০ বছর আপনার অবস্থান কোথায় হবে চিন্তা করেছেন? বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৬০ বছর। তাই চিন্তা করা উচিত নিজের জীবন ও অর্জন সম্পকে। আজকে আমরা যেগুলো অর্জন করছি মৃত্যুর পর সেগুলো কোনো কাজে আসবে নাকি সেই অর্জন মৃত্যুর পর নিজের ধ্বংসের কারণ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রচুর অর্জনের জায়গা। সেই অর্জনকে কাজে লাগাবে হবে নিজের জীবনে। নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে আমাদের সবাইকে। মানুষ হিসেবে মানুষের পরিচয় যেন আমরা রক্ষা করতে পারি। মানুষের মধ্যে যদি মনুষ্যত্ব না থাকে তাহলে তারা মানুষের পর্যায়ে থাকে না। আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছে, যারা হত্যা করেছে তারা বাংলাদেশের একটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাদের কি মেধা কম ছিলো?, কিন্তু তাদের মনুষ্যত্ব কোথায় ছিলো। সাপের মতো পিঠিয়ে হত্যা করা হয়েছে আবরার ফাহাদকে। এই শিক্ষা ব্যবস্থা কি আমাদের মনুষ্যত্ব শেখায়? এই শিক্ষাব্যবস্থা কি আমাদের নৈতিক জায়গাটা কি সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারছে? আল্লাহর প্রতি গোলামীর ভাবনা মানুষকে মনুষ্যত্ব ও নৈতিকতার ভিত্তিকে শক্ত করে। দেশের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে, আমাদের দেশটি চমৎকার একটি দেশ,কিন্তু আমাদের দেশটি এখনো সঠিক নেতৃত্বের কারণে সামনে এগিয়ে যেতে পারছে না, ব্রিটিশদের গোলামী শিক্ষাব্যবস্থা এখনো চলমান, যেই শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে জাতি কখনো উন্নতি দিকে যেতে পারবে না। আমাদের শুধুমাত্র এখন বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবলে হবেনা, বিশ্ব এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজ, আমাদের চিন্তা করতে হবে সেই ফিলিস্তিনের শহীদের নিয়ে। আবু সাঈদকে নিয়ে আমরা যেভাবে ব্যতিত হয়েছি ঠিক একইভাবে আমাদেরকে ও এই ভাইদের নিয়ে ভাবতে হবে। মতিহারের এই সবুজ ক্যাম্পাস থেকেই আমাদের বিশ্ব ব্যবস্থার নৈরাজ্যের বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে,সেই জায়গায় গিয়ে আমাদের পরিবর্তগুলো আনতে হবে। যারা আজ আমাদের গণতন্ত্রের সবক শিখাতে আসে তারাই সাম্রাজ্যবাদের প্রতীক ছিলো, যারা আজ গণতন্ত্র শিখাতে আসে তারাই গণতন্ত্রের বিরোধী হিসেবে প্রতীয়মান। আমাদের লক্ষ্য সৎ,দক্ষ,ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করা। যাদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সব জুলুমের অবসান ঘটবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন – দ্বীন কায়েমের দৃঢ় প্রত্যয়ী সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে নবীনদের শুভেচ্ছা। আজ আমরা নতুন বাংলাদেশে দাড়িয়ে আছি। জালেমের শৃঙ্খল থেকে আমাদের দেশ আজ মুক্ত, আমরা জালেমকে দিল্লিকে পাঠিয়ে দেশকে মুক্ত করতে পেরেছি। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র হিসেবে তোমাদের প্রতি কিছু পরামর্শ, জীবনকে সাজানোর জন্য প্রয়োজন উত্তম আর্দশ। আর উত্তম আর্দশ হলো হয়রত মুহাম্মদ (সা:)। যার জীবনের প্রতিটি কাজ আমাদের জন্য অনুকরণীয় ও অনুকরণীয়। রাসুলের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য রয়েছে আমাদের অবারিত সুযোগ। ব্যাহিক ব্যবহারে আমাদের শালিনতা বজায় রাখা উচিত। জীবনকে সাজানোর পাশাপাশি পড়ার টেবিলকেও সুন্দর করে সাজানো হবে। জানার জগৎকে প্রসারিত করতে হবে। যাকে জীবনের আর্দশ হিসেবে গ্রহণ করবো তার জীবন আর্দশ টেবিলে থাকতে হবে, যেন সেই আর্দশের আলোকে জীবনকে গড়া যায়। আর উত্তম আর্দশ হলো হয়রত মুহাম্মদ (সা:)। সকালের বাতাসে মুনাফেকের গন্ধ থাকে না, সকালের বাতাস যেন আমরা গ্রহণ করতে পারি ফজরের সালাতের পর সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জীবনে সহচর্য বাচাই করতে হবে খুবই চিন্তার সাথে। এমন সহচর্য গ্রহণ করবো যার সহচর্যে আসলে ইহাকালীন ও পরকালীন মুক্তির পথ সহজ হয়। যার কাছে গেলে ক্যারিয়ারের গাইডলাইন পেতে পারি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টা হলো জীবনকে সাজানোর সময়। জীবনকে সাজানোর সময় যেন জীবনকে ধ্বংসের পথে না নিয়ে যাই। আমার একটি ভুলের জন্য যাতে বাবা- মায়ের, সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বপ্নগুলো ধ্বংস না হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে মহান রবের পথে ফিরে যেতে হবে সবাইকে। আর এই পথের পথিক হিসেবে রবের কাছে পৌঁছানোর আগে যেন প্রয়োজনীয় উপরকরণ সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে পারি তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষাংশে ছাত্রদের মাঝে কুরআন শরীফ বিতরণ ও জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতিচারণ নিয়ে নাটিকা উপস্থাপন করা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরে উদ্যোগে অনুষ্ঠিত নবীনবরণে দুটি পর্বে বিভিন্ন বিভাগের দেড় হাজারেরও বেশি নবীন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
