ফেনী সংবাদদাতা
সোনাগাজীর চরমজলিশপুরে তিন পরিবারের ১২ সদস্যকে অজ্ঞান করে টাকা ও স্বর্ণাংকার লুট করেছে দূর্বিত্তরা।
রবিবার মধ্যরাতে সোনাগাজীর চরমজলিশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মজলিশপুর গ্রামের পাটোয়ারি বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় অজ্ঞানের শিকার হয়েছেন এক আলিম পরীক্ষার্থী, এক কলেজ ছাত্র, শিশু ও নারী সহ পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যরা। এদের মধ্যে ৬জন কে দাগনভূঞাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
খোজ নিয়ে জানা যায় অন্যান্য দিনের মত রবিবার রাতে তারা স্বাভাবিক ভাবে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, এরই মধ্যে তাদের কে অজ্ঞান করে ঘরে ডুকে টাকা ও স্বর্ণাংকার লুট করে নিয়ে যায় দূর্বিত্তরা,কোন অভিনব কৌশল প্রয়োগ করে ভাতের সাথে অজ্ঞান হওয়ার ক্যামিকেল প্রয়োগ করা হয়েছিলো বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাম আবু বকর সিদ্দিক এর সাথে কথাবলে জানা যায়, তার পরিবারের ৬ জন কে অজ্ঞান করা হয়েছে, এদের মধ্যে তার স্ত্রী শাফিয়া বেগম, পুত্রবধু সালমা খাতুন, তার কণ্যা আলিম পরীক্ষার্থী তাসলিমা নাসরিন ফারহানা, নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া কণ্যা তাহমিনা নাজনীন ফারজানা ও দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ুয়া নাতিন ফাহমিদা আক্তার আফিফা ও রয়েছে। এসময় দূর্বিত্তরা তার ঘর থেকে ৪ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩ হাজার টাকা নিয়ে গেছে বলে তিনি দাবী করেন।
একই রাতে অই বাড়ীর প্রবাসী কামাল উদ্দিনের স্ত্রী ফেরদৌস আরা সুমি ও পুত্র ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের একাদশের ছাত্র কামরুল হাসান ও অপর শিশু পুত্র মাহফুজ রয়েছে। এছাড়া আহসান উল্লাহর পুত্রবধু বিবি মরিয়ম ও নাতনি বিবি হাজেরা রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ওমর ফারুক জানান, ঘটনার পরপর আমরা চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ কে বিষয়টা জানিয়েছি, তারা থানায় অবগত করেছে, অসুস্থ্যদের চিকিৎসা চলমান থাকায় এখনো অভিযোগ দেয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের কেউ থানায় যেতে পারেনি।
চরমজলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ হোসেন জানান, এই ধরনের ঘটনা একেবারে অপ্রত্যাশিত ও দু:খ জনক, আমি চাই ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হোক।
সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাসান ইমাম জানান, এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে, জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
