
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে বাড়তে শুরু করেছে গাড়ির চাপ। ভোর থেকে এ মহাসড়কে দেখা যায় গাড়ির লম্বা সিরিয়াল। অনেকে বাসে সিট না পেয়ে যাচ্ছে ট্রাকে আবার কেউ পিকআপ ভ্যানে।
সড়ক পথে ঈদ যাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ভোর রাতে যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ও গাড়ি বিকল হওয়ায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহনগুলো সরানোর পর যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। ভোর রাত থেকে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে কয়েক ঘন্টা যাবত বাসের জন্য অপেক্ষা করছে ঘরমুখো মানুষ। এ সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাত্রীরা।
সকাল থেকে মহাসড়কে গণপরিবহনের চেয়ে ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা বেশি লক্ষ করা গেছে । গণপরিবহন না পেয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে খোলা ট্রাকে করে গন্তব্য পৌঁছাতে দেখা গেছে যাত্রীদের। অনেকেই গরুবাহী খোলা ট্রাকে বাড়ি ফিরছে।
এ সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। উত্তরের ঘরমুখো মানুষ বলছে, ৩০০ টাকার ভাড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা যাত্রীরা।
বুধবার (৪ জুন)সকাল থেকে এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে দেখা যায় এমন চিত্র।
বেলা ১১ টায় মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
এসময় জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন,মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে বাড়ি যাতে ফিরতে পারে সেজন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল কোর্ট বসানো হয়েছে। বারতি ভাড়া যেন না দেয় গাড়ি কর্তপক্ষ সে বিষয়ে অভিযান চলমান রয়েছে।
আর বাস চালকরা বলছেন, উত্তরবঙ্গ থেকে খালি গাড়ি নিয়ে ঢাকায় নিয়ে যেতে হয়৷ তাই কিছুটা ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। আর যানবাহনের চাপ বাড়লেও বর্তমানে সড়ক স্বাভাবিক রয়েছে।
যমুনা সেতুর পূর্ব থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও যানজট নেই। মহাসড়কে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু থেকে দুই কোটি ৮৬ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ এবং এর বিপরীত ৩৩ হাজার ৫৬৪ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।
বুধবার (৪ জুন ) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ হাজার ৫৬৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১৭ হাজার ৬৫৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১৫ হাজার ৯০৭ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৮১ হাজার ৫০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন,মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও নেই যানজট।যানজট নিরসনে যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশে ৯টি করে ১৮টি টোল বুথ স্থাপনসহ মোটরসাইকেলের জন্য ৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে।সেতুর উপর কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সেই জন্য দুইটি রেকারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।আমাদের পুলিশ প্রশাসনের সাথে সমন্বয় আছে।সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে।মানুষ যেন নিবিঘ্নে গন্তব্য পৌঁছাতে পারে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শরীফ বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ রয়েছে,নেই যানজট।এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে কাজ করে যাচ্ছে।পুলিশ মহাসড়কে সার্বক্ষণিক রাত-দিন কাজ করছে।মানুষ যেন নিবিঘ্নে গন্তব্য পৌঁছাতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।