
কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কলা ও মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোট ১৪০ জন মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক বিজ্ঞান অনুষদের হল রুমে এ বৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে কলা ও মানবিক অনুষদের অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। এছাড়াও কলা ও মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “সরকারের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিক্ষার্থী যেন নিজের বিষয় নিয়ে হীনম্মন্যতায় না ভোগে; বরং নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।”
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “আর্থিক সংকটের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই নিজেদের দক্ষ, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “আর্থিক সহায়তা শুধু শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতা নয়, বরং তাদের মেধা, অধ্যবসায় ও সম্ভাবনার স্বীকৃতি। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানভিত্তিক গবেষণা, নতুন ধারণা সৃষ্টি এবং স্টার্ট-আপ সংস্কৃতিতে সম্পৃক্ত হতে হবে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও অর্জন ধরে রাখতে দায়িত্বশীলতা, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।”