
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ ঃ টানা তিন দিন পর সূর্য্যরে দেখা মিলেছে। রৌদ্দ মেঘের লুকচুরি খেলা চলছে। তাপও কিছুটা বেড়েছে। শীতও কমেছে। বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার শনিবার চতুর্থ দিন।
প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের তেমন উপস্থিতি না থাকলেও চতুর্থ দিন সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থী আসতে শুরু করেছেন। ঘুরে দেখছেন মেলা প্রাঙ্গণ।
১লা জানুয়ারী ঢাকার পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফসি) শুরু হয়েছে বাণিজ্য মেলার ২৯তম আসর। মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, সকাল ১০টায় গেট খোলার পরপরই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তারা জানান, প্রথম দিকে শুধু স্টল ঘুরে দেখার জন্য আসা, কেনাকাটা শুরু হবে মাঝামাঝি সময় থেকে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণা। তবে মেলা জমে উঠতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকদিন। এখনও অনেক স্টলে সাজসজ্জার কাজ চলছে।
মেলায় প্রবেশ টিকিট ইজারাদার ‘ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের, হেড অফ অপারেশন এসএম আমিনুল ইসলাম বলেন, তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারনে ক্রেতা দর্শনার্থীরা মেলায় না আসলেও শনিবার থেকে লোকসমাগম বৃদ্ধি পাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্হার উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কারণে এবার ক্রেতা দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মেলার আয়োজক সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বানিজ্য মন্ত্রনালয় মেলাকে প্রানবন্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্ব্বোচ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব(রপ্তানি) আব্দুর রহিম খান বলেন মেলা এলাকায় ধুলো বালির সমস্যা সমাধানে প্রতিনিয়ত পানি দেওয়া হচ্ছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। গত বছরের তুলনায় এবারে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় কেনা-বেচার ধুম পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাত শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক ভ্রাম্যমান আদালত রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গেইট ইজারাদারের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে।
ঢাকার উপকন্ঠে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ -চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারে চতুর্থ বারের মতো বসেছে বানিজ্য মেলা। এবার মেলার প্রধান প্রবেশদ্বার ‘জুলাইয়ের স্মৃতির আদলে তৈরি করা হয়েছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা যায়, এবার বাণিজ্য মেলায় বিশ্বের ৭টি দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠানসহ থাকছে মোট ৩৬২টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন। মেলায় ই-টিকিটের ব্যবস্থা থাকায় প্রবেশপথে রয়েছে ভিন্ন ব্যবস্থা।
মেলায় প্রথমবারের মতো অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল বা প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে বিশেষ ছাড়ে উবার সার্ভিস। কুড়িল- বিশ্বরোড থেকে ৩৫ টাকা ও ভুলতা- গাউছিয়া থেকে ২০ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে।
মেলায় সম্ভাবনাময় সেক্টর বা পণ্যভিত্তিক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এ বছর। বিদেশি উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে রয়েছে স্বতন্ত্র সোর্সিং কর্নার, ইলেক্ট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন। বয়সভিত্তিক দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে তৈরি করা হয়েছে প্রযুক্তি কর্নার, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্নার। শিশুদের নির্মল চিত্তবিনোদনের জন্য মেলায় রয়েছে শিশু পার্কও।ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য থাকছে ইসলামি ব্যাংক,ডাচ্ বাংলা ও সোনালী ব্যাংকের একাধিক বুথ। মেলার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ২৩৪টি সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি রয়েছে ৫ টি ওয়াচ টাওয়ার।
মেলার দায়িত্বরত সচিব বিবেক সরকার বলেন, সবে তো শুরু হল। আস্তে আস্তে লোক সমাগম বৃদ্ধি পাবে, বেচাকিনিও বাড়বে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেটে গেলে মেলায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে আশা করছি। মেলা মাসব্যাপী সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। মেলায় প্রবেশ মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের (১২ বছরের নিচে) ক্ষেত্রে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।###