
মো.নাজিউল্লাহ ভূইয়া
কেরানীগঞ্জ( ঢাকা) প্রতিনিধি
রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শান্ত, ঘুমন্ত সকালটা আচমকাই যেন পরিণত হলো বিভীষিকায়। শুভাঢ্যা ইউনিয়নের বেগুনবাড়ি এলাকায় ‘আল্লাহর দান স্কীন প্রিন্ট’ নামের একটি টিস্যু ব্যাগ তৈরির কারখানায় হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। মুহূর্তেই দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে কারখানার প্রতিটি কোণা।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক হাফিজুর রহমানসহ আরও দুই কর্মচারী। হাফিজুর রহমানকে দ্রুত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, অন্য দু’জনকে ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে।
মালিক পক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস জানায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা এবং প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আগুনের চাক্ষুষ প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় গৃহবধূ ফাতেমা আক্তার যেন এখনও আতঙ্ক ভুলতে পারছেন না। তিনি বলেন,“সকালে রান্নাঘরে কাজ করছিলাম, হঠাৎ দেখি জানালা দিয়ে ধোঁয়ার কুন্ডলী উঠছে। সন্তান আর শাশুড়িকে নিয়ে দৌড়ে নিচে নেমে আসি। কী ভয়ানক সেই মুহূর্ত!”
আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এলাকার আরেক তরুণ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রাব্বি। তিনি বলেন,“চোখের সামনে আগুন ছড়িয়ে পড়ছিল, মানুষ ছুটছিল, কেউ কেউ চিৎকার করছিল। সময়মতো ফায়ার সার্ভিস না এলে আজকের সকালটা হয়তো এক মৃত্যুকূপে পরিণত হতো।”
বেগুনবাড়ির দোকানি আলতাফ হোসেন জানান,
“এ কারখানায় কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না, এটা জানতাম না। ভাবতেই ভয় লাগে—আগুন ছড়িয়ে গেলে এই এলাকার অর্ধেকটা হয়তো পুড়ে যেত।”
কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজল মিয়া জানান,“সকাল ১১টা ০৫ মিনিটে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তিনটি ইউনিট পাঠাই। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কারখানায় কোনো অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বা পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না, তাই আগুন নেভাতে খুব কষ্ট হয়েছে।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত। কারখানার যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, কম্পিউটারসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
আবাসিক এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান যেন এক ticking time bomb—যা শুধু সময়ের অপেক্ষায়। এ ঘটনা শুধুই একটি আগুন নয়, এটি ছিল অসতর্কতার আগুন, দায়িত্বহীনতার আগুন—যা পুড়িয়ে দিয়েছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, আর অনেকের হৃদয়ে জাগিয়ে দিয়েছে ভয়।সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব, এমন কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া—যাতে আগামীর কোনো সকাল এভাবে দগ্ধ না হয়।