
ভোরের বাংলা নিউজ প্রতিবেদক
জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন, করতে সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে ১৮৫০০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ মতলব উত্তর নির্বাচন অফিসের পিয়ন থাকাকালীন বাসেদের বিরুদ্ধে।
জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে সরকারি ফি ৩০০/৪০০ টাকা। ভুক্তভোগীরা মাহমুদা বেগম(৬০) বলেন পিয়ন বাছেদ আমাকে বলেন জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে ৩০ হাজার টাকা লাগে সরকারি ফ্রি তখন আমি বলি বাবা আমি তো গরিব মানুষ বিধবা স্বামী নাই তখন তাকে আমি ১৮ হাজার ৫০০ টাকা দেই জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের জন্য আমার ছেলে আলাদা থাকে তাই আমি আমার ছেলেকে বলিনি সরকারি ফ্রি এটা ছেলেকে বলে কি লাভ কিন্তু জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের জন্য অনেক কষ্টে অনেক অনুরোধ করে বাছেদের হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করি তারপরে সে আমাকে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করে দেয় এবং বাকি ১১৫০০ টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে, তখন আমি আমার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমার ছেলে আমাকে বলে এটা তো সরকারি ফি না সরকারি ফি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, এবং কয়েকজনের সঙ্গে পরামর্শ করি তারা বলে যে লিখিত অভিযোগ দেন আমি আমার টাকা ফেরত চাই আমি গরিব মানুষ আমার বয়স (৬০) বছর, ওই ধরনের দুর্নীতিবাজদের লোকদের কঠিন শাস্তির দাবি করছি।

ভুক্তভোগী মাহমুদা বেগম আরো বলেন এই অভিযোগ করার পরে পিয়ন বাছেদ আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের কে বিভিন্ন ব্যক্তি দিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে, বলে অভিযোগ দিয়ে আমার কিছুই করতে পারবা না সর্বোচ্চ আমাকে বদলি করবে আর বদলি কখনো শাস্তি হতে পারে না।
এই অভিযোগের ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা নির্বাচনী অফিসার জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন অভিযোগ পেয়েছি যদি অভিযোগের সত্যতা থেকে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, আমাদের প্রতিবেদক তাকে প্রশ্ন করেন বদলি তো কখনো শাস্তি হতে পারে না তখন তিনি বলেন আমি নিরুপায় আমি এর থেকে বেশি কিছু করতে পারবো না তাকে অন্যান্য শাস্তি দেওয়ার অধিকার উপরের কর্তৃপক্ষের আমি শুধু সুপারিশ করতে পারব।
পিয়ন বাছেদ জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের জন্য অথবা নতুন জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে এবং তার এই দুর্নীতির জন্য চাঁদপুর মতলব উত্তর নির্বাচন কমিশন থেকে তাকে কয়েক মাস আগে কচুয়াতে বদলি করা হয়।
আমাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে তার আরো তথ্য তিনি ৮২৫০ টাকা বেতনে চাকরি করে ২টা পরিবার চালান বিয়ে করেছেন ২ টা,দুই স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করেন এই বিষয়ে তার আশেপাশে অনেকের কাছে প্রশ্ন করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বলেন তিনি সামান্য একজন পিয়ন অথচ বাজারে গেলে সব থেকে বড় মাছ তিনি উচ্চ মূল্য দিয়ে ক্রয় করেন, আরো কয়েকজন বলেন তিনি যেভাবে বাজার করেন দেখলে মনে হয় তার মাসে কয়েক লক্ষ টাকা ইনকাম, এবং তিনি যেখানেই চাকরি করেন সেখানেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রভাবশালীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন যেন তার এই দুর্নীতি নিয়ে কেউ কোনো কথা বলতে না পারে এবং যারাই কথা বলে তাদেরকে বিভিন্ন ভয় ভীতি প্রদর্শন করেন।
মাহমুদা বেগমের ছেলে আউয়াল এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এই অভিযোগ করার পর তিনি বেশ কয়েকজন ব্যক্তি দিয়ে আমাকে হুমকি দিয়েছেন এবং এই অভিজ্ঞতা আমাদের এই প্রথম যে কোন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পর কেউ হুমকি দেয় এই ধরনের ঘটনা আমরা আগে দেখিনি বা শুনিনি আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকিতে আছি আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব, এবং সেই হুমকির কল রেকর্ড আমাদের প্রতিবেদকের কাছে এসেছে যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য না হলে অনেক খারাপ হবে এক জৈনিক রাজনৈতিক ব্যক্তি।
পিয়ন বাছেদ অনেক ধরনের ও চালাক তিনি মাহমুদা বেগমের বাসায় লোক পাঠিয়ে ১০০০০ টাকা পাঠিয়েছেন এবং ফোনে বলেছে এই দশ হাজার টাকা নেন টাকা তো আমি একা খাই নাই আমার আরো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যারা আছে তাদেরকেও ভাগ দিয়েছি আর আপনি আমাকে একটা সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে দিবেন আর যদি না করেন তাহলে পরিনাম ভয়ংকর খারাপ হবে।
ঢাকা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন আমাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদ চলছে এই জন্য আমরা একটু ব্যস্ত সময় পার করছি অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তার সঙ্গে আরো যারা জড়িত আছেন তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে পিয়ন বাছেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন টাকা নেওয়ার কথা এবং পরে বলেন যে আমি তো ওই মহিলাকে উপকার করেছি তার ঐ আইডি কার্ড সংশোধন করতে পঞ্চাশ হাজার টাকা লাগতো সেখানে আমি ১৮৫০০ টাকায় করে দিয়েছি এবং টাকা তো আমি একা খাইনি ভাই সব জায়গায় একই নিয়ম চলে আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন, সরকারি নিয়মে কি দেশ চলে, এবং হুমকির ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন আমি কাউকে হুমকি দেই নাই আমার কয়েকজন পরিচিত লোককে তাদের বাসায় পাঠিয়েছিলাম যে এই অভিযোগটা তুলে নেওয়ার জন্য।
প্রথম যখন জাতীয় পরিচয় পত্র হালনাগাদ করা হয় তখন অনেকেরই পরিচয় পত্রের বিভিন্ন ধরনের ভুল হয় এবং নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয় আপনারা আবেদন করে এই ভুলগুলো সংশোধন করে নিবেন কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলা উপজেলায় এই জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে গেলে গুনতে হয় লক্ষ লক্ষ টাকা এবং এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কেউ কোন প্রতিকার পায় না আবার অনেকে অভিযোগ করেন না বা ভাবেন বিভিন্ন আইনের বেড়াজালে পড়তে হবে তাই ঘুষ দিয়েই জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করেন, প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্রের একজন নাগরিকের জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করা অথবা সংশোধনের জন্য এই ধরনের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন জেলা-উপজলায় মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে ও অজস্র অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
আসছে দ্বিতীয় পর্বে পিয়ন বাছেদের আয় ব্যয়ের হিসাবের প্রতিবেদন এবং তিনি কি পরিমান অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন ও কি পরিমান অর্থ প্রতিমাসে ব্যয় করেন সেই বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে দ্বিতীয় পর্বে তুলে ধরা হবে।