
জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুর জেলাজুড়ে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে থমকে গেছে অনেকের জরুরি যাতায়াত, ফলে জনমনে বাড়ছে তীব্র ক্ষোভ।
শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের প্রধান প্রধান ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কিন্তু অধিকাংশ পাম্পেই ‘তেল নেই’ জানিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক চালক এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে হন্যে হয়ে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত অকটেন বা পেট্রোল। পাম্প কর্তৃপক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ আরও দানা বাঁধছে।
হঠাৎ পাম্প বন্ধ রাখার বিষয়ে জামালপুর জেলা ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির এক নেতা ও স্থানীয় পাম্প মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ডিপো থেকে তেলের স্বল্প সরবরাহকে দায়ী করেন।
একজন পাম্প মালিক জানান:”আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েও সময়মতো তেল পাচ্ছি না। গত দুদিন ধরে আমাদের স্টকে অকটেন ও পেট্রোল একেবারে শেষ পর্যায়ে। তেল নেই বলে আমরা বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রেখেছি। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়নি; মূলত ওপর থেকে সরবরাহ না আসায় আমরা নিরুপায়।
তারা আরও দাবি করেন যে, পরিবহন ধর্মঘট বা ডিপো পর্যায়ে কারিগরি সমস্যার কারণে এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে, তবে বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
তেল সংকটের কারণে মোটরসাইকেল চালকদের দৈনন্দিন কাজে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে।অফিসগামী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। অসুস্থ রোগী নিয়ে যাতায়াত কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষগুলো মাঝপথে আটকা পড়ছেন।গণপরিবহনের ওপর চাপ বাড়ায় রিকশা বা ইজিবাইক চালকরাও বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, আসন্ন দাম বৃদ্ধির গুজব বা কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে তেল মজুত করা হচ্ছে কি না, তা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত। তারা দ্রুত জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকি কামনা করেছেন। এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।