
ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠিতে দীর্ঘ ২২ বছর পর আজ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে ঝালকাঠি জেলা জামায়াত ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশে ইসলামী আইন কায়েম করতে হলে আগামী নির্বাচনে ইসলামিক দলগুলোকে ভোট দিতে হবে।দীর্ঘ ৫৪ বছরে দেশের যত সরকার এসেছে তারা কেউই এদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।আমরা আন্দোলন করে জালেমকে তাড়াতে পেরেছি কিন্তু জুলুমকে তাড়াতে পারিনি। এখনো দেশের মানুষের সাথে একটি গোষ্ঠী জুলুম করছে। এই জুলুমকে তাড়াতে হলে দেশে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে হবে।’
তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে জুলুম নির্যাতন ও অত্যাচার অবসান করতে হলে কোরআনের আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশ স্বাধীন করা হয়েছিল ভোটের ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। দেশের জনগন সংগ্রাম করেছিল আমার ভোট আমি দেবো যাকে খুশি তাকে দেবো কিন্তু আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করেছে। তারা মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে নিয়েছে। ২০২৪ সালে মানুষ ভোট কেন্দ্রে যায় নাই এবং মানুষ ভোটে অংশ গ্রহন করলো না। ভোট কেন্দ্রে গেলে বলা হতো ভোট দেয়া হয়েছে আপনার ভোট দেয়া লাগবে না।ঝালকাঠির আশেপাশে অনেক ভালো ভালো ইসলামী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যেমন আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (রহ:), ছারছিনার পীর, চরমোনাই পীর ও নেছারাবাদের পীর। তারা ইসলামের খেদমদ করে যাচ্ছেন। ঝালকাঠির মাটি ইসলামের ঘাটিতে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে এখানে ইসলামের পক্ষে জোয়ার ওঠবে ইনশাল্লাহ। বিগত সরকার আমাদেরকে অনেক কষ্ট দিয়ে গেছে। তারা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। ৪ দিনের মাথায় আল্লাহ স্বৈরাচারকে নিষিদ্ধ করে দেশ থেকে বিতারিত করেছে।বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হলে আল্লাহর আইন চালু করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে মানুষের আইন চলে, মানুষের আইনে ভুল আছে কিন্তু আল্লাহর আইনে কোন ভুল নাই। যত সরকার এসেছে কোন সরকারই বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে নাই, জুলুম অত্যাচার বন্ধ করতে পারে নাই।এগুলো বন্ধ করতে হলে নির্ভুল আইন চালু করতে হবে আর সেই আইন হলো আল্লাহর আইন। আল্লাহর আইন যেদিন চালু হবে সেদিন থেকে বাংলাদেশ থেকে জুলুম নির্যাতন ও অত্যাচার বন্ধ হবে। ইসলাম একটি আলো আর বাকি সব অন্ধকার। আলো আসলে অন্ধকার থাকে না কিন্তু বর্তমানেও অন্ধকার বিরাজমান আছে। আমরা আল্লাহর আইন ইসলামকে কায়েম করতে চাই।’
জামায়াতের নিবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরে পেতে সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।’
ঝালকাঠি জেলা জামায়াত আমির এ্যাড. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযম হোসাইন হেলাল ও কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।
কর্মী সম্মেলনে অন্যান্যনের মধ্যে মধ্যে বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় জাময়াত নেতা ফকরুদ্দিন খান রাজি, মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার,বরিশাল জেলা আমীর অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর জব্বার, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি মজলিসে শূরা সদস্য লস্কর মোহাম্মদ তসলিম, পিরোজপুর জেলা আমির মো: তোফাজ্জেল হোসেন ফরিদ, সাবেক বাকসুএজিএস ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর ব্যবসায়ী বিভাগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম, বিশিস্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ড. ফয়জুল হক, ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল হাই, জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি এম সায়েম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঝালকাঠি জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মো: ফরিদুল হক।
২২ বছর পর প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া এই কর্মী সম্মেলনে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের হাজার হাজার নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।