
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ ও তাঁর আপত্তিকর ছবি ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পুনরায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি খাইরুল ইসলামকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল। এ সময় অপরাধে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা কলেজ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-১৪-এর প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার খাইরুল ইসলাম ভুক্তভোগী গৃহবধূর সন্তানের মাদ্রাসাশিক্ষক ছিলেন। সন্তানের পড়াশোনার খোঁজখবর নেওয়ার অজুহাতে তিনি প্রায়ই ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
এজাহারের বরাত দিয়ে প্রেস রিলিজে বলা হয়, গত ৮ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে খাইরুল ইসলাম ওই গৃহবধূর বাড়িতে যান। এ সময় তাঁর সন্তান বাইরে খেলতে যাওয়ায় বাড়িতে একা পেয়ে তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলে তাঁর কিছু আপত্তিকর ছবি ধারণ করেন। পরে এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে পুনরায় ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশে গত ২ অক্টোবর টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা নম্বর ৬ দায়ের করা হয়। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১), ৮(২) ও ৮(৩) ধারায় রুজু করা হয়।
প্রেস রিলিজে আরও জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অভিযোগে ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।