
টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারী এলাকাগুলোর মধ্যে কালিহাতী নারান্দিয়া শীর্ষে । নারান্দিয়ার শতাধিক বাড়িতে হাতে ভেজে মুড়ি উৎপাদিত হয় । এ ছাড়া উপজেলার নারান্দিয়া, নগরবাড়ী, দৌলতপুর, লুহুরিয়া, সিংহটিয়াসহ প্রায় ১৫টি গ্রামের কয়েক শ পরিবার হাতে ভেজে মুড়ি তৈরি করে থাকে।
একজন ব্যক্তি এক দিনে এক থেকে দেড় মণ চালের মুড়ি ভাজতে পারেন । প্রতি মণ চালে ২২ থেকে ২৩ কেজি মুড়ি হয়। প্রতি কেজি মুড়ি পাইকারি ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং খুচরা ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে ।
দৌলতপুর গ্রামের রাধা রানী মোদক বলেন , ‘আমরা বংশপরম্পরায় মুড়ি ভাজা ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত । ধান সিদ্ধ করে রোদে শুকানোর পর আবার সেই ধান মেশিনে মাড়াই করে মুড়ি ভাজার জন্যে চাল তৈরি করা হয়। পরে সেই চাল দিয়ে লবণজলের মিশ্রণে আগুনে তাপ সহ্য করে বিশুদ্ধ মুড়ি ভাজতে অনেক পরিশ্রম হয় । পরিশ্রমের তুলনায় তেমনটা লাভ হয় না ।’
অধীর মোদক বলেন, ‘মুড়ি ভাজার প্রতি মণ ধান এক হাজার ৩০০ টাকা। এক মণ ধানের মুড়ি ভাজতে খড়ি, লবণ, যাতায়াত ও ধান ভাঙানোর খরচ আরো ১৫০ টাকা ।’ প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদন ও কেনাবেচা করা হয়। তবে পরিশ্রমের লাভ বেশির ভাগই চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। যাতায়াতব্যবস্থা ভালো থাকায় সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, বগুড়া, শেরপুর ও গাজীপুরে নারান্দিয়ার মুড়ি সরবরাহ করা হয় ।
তবে প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারীরা।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম বলেন, নারান্দিয়ার হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা ও সুনাম রয়েছে। মুড়ি ভাজা কারিগরদের তালিকা করে সাহায্য করার উদ্যোগ নেব ।