

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
গান-নাচের পসরা সাজিয়ে ও হরেক রকমের পিঠাপুলির সমাহারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটে (আভাই) হিম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের ‘ভাষা মঞ্চে’ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে এই উৎসব। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় নাচে-গানে মুখরিত হয় এ প্রাঙ্গণ।
শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ উৎসবে দেখা মেলে নানান মুখরোচক স্টল। রসনাবিলাস, স্বাদবিচিত্রা, একদিনের হোটেল, চায়না মুন, চায়ের সাথে টা, জিলাপির প্যাচ লাইভ, অপুর সংসার -নামের মতই সুবাস ছড়িয়েছে স্টলগুলো।
এতে নকশি পিঠা, বাদামের হালুয়া, ভাপা পিঠা, ছিটারুটি, ডালের হালুয়া, দুধ কদু, লাউয়ের পায়েস, মালাই রোল, জিলাপি, বুটের হালুয়া, মালপোয়া, সুজির রসমবরি পিঠা, ফুলঝুরি পিঠা, মটরশুটির বরফি, দুধ পাকন, মুগ পাকন, পুডিং, দুধ চিতই, পাটিসাপটা, গোলাপ পিঠা, ভেলপুরি, নারিকেল দিয়ে হাঁসের মাংসের সঙ্গে ছিটারুটি, কোয়েল ফ্রাই, জর্দ্দা, মিষ্টি কুমড়ার লাড্ডু, ঝিনুক পিঠা, মটরশুঁটির বরফি, গাজরের লাড্ডু, মাছ পিঠা, চা, পান, বাকরখানি, রসমালাই, সেমাই এর রসবড়া, গোলাপ পিঠা, লিচু পিঠা, ঝাল পিঠা, গুরের ফিরনি, পদ্ম সেমাইসহ আরো অসংখ্য পিঠার আয়োজন ছিল।
চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াজিদ হোসেন বলেন, ‘দর্শক সমাগম খুব ভালো। আমাদের স্টল ‘জিলাপীর প্যাচ লাইভ’ ভালোই সাড়া জাগিয়েছে।’ তবে জিলাপির দাম শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে রাখতে কিছুটা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীনও হয়েছেন বলে জানান এই শিক্ষার্থী।
‘চায়ের সাথে টা’ স্টলের বিক্রেতা, ইংরেজি ভাষা বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম ইকবাল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘চা বানানোর অভ্যাস ছিল না, এত মানুষকে চা বানিয়ে খাইয়ে এতে পারদর্শী হয়ে গেছি। মানুষের ভালোবাসা, প্রশংসাই ছিল দিনের সেরা প্রাপ্তি।‘
একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী, রসনাবিলাস স্টলের বিক্রেতা ইপসিতা বলেন, ‘আজকে এত মানুষ আসবে এটা তো কল্পনাও করিনি। এমন কোনো স্টল দেখলাম না যেটার সামনে ভিড় ছিল না। যদিও নিজের স্টল থাকায় সবগুলো ঘুরে দেখতে পারিনি। তবে চমৎকার একটি দিন ছিল। গান বাজনা, পিঠাপুলি আর আমরা তিন বান্ধবী উৎসবমুখর একটা সময় কাটিয়েছি।‘
এদিকে চারুকলা থেকে ঘুরতে আসা সানজিদা ইসলাম সিগ্ধা অনেকটা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ১টার দিকে আসি। জনসমাগম ও পিঠার চাহিদা বেশি থাকায় বেশিরভাগ ভালো স্টলের পিঠা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। এতে অতিথিদের নিয়ে আসলেও ফেরাতে হয় অনেকটা আফসোস নিয়ে।‘