
কে এম রাশেদুজ্জামান
কুয়াকাটা (কলাপাড়া উপজেলা) প্রতিনিধিঃ
‘
পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের উদ্যোগে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই ) সকাল ১০ টায় আবাসিক হোটেল গ্রেভার ইন হল রুমে আমন্ত্রিত অতিথি, পর্যটকদের সেবা দেওয়া (স্টেক হোল্ডার) বিভিন্ন প্রতিনিধি এবং সুধীজনের অংশগ্রহণে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় পর্যটকদের সেবার মানোন্নয়নে প্রশাসনের কেমন ভূমিকা নেয়া প্রয়োজন এবং পর্যটকদের সেবা দানকারী স্থানীয় স্টক হোল্ডারদের করনীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার (পদোন্নোতি) আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুয়াকাটা পৌর মেয়র মোঃ আনোয়ার হাওলাদার, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোতালেব তালুকদার, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব, শিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলাসের এজিম মোঃ আনোয়ারুল আজিম, ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের ইনচার্জ মোঃ আঃ খালেক, কুয়াকাটা নৌ পুলিশের ইনচার্জ মোঃ দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
এসময় কমিউনিটি মিটিং এ উপস্থিত থাকা স্থানীয় স্টক হোল্ডাররা রাতের সমুদ্র সৈকতে সম্প্রতি আসা ভাসমান পতিতাদের উৎপাত নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেন। এছাড়াও শেখ জামাল সেতুতে মটর সাইকেলে আগত পর্যটকদের রাতে মহিপুর থানা পুলিশের তল্লাশি এবং কাপলদের কাবিননামা দেখার বিষয়ে হয়রানি রোধে দাবী তোলা হয়। অপরদিকে শেখ রাসেল সেতুর টোলপ্লাজা থেকে শুরু করে কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, সড়কের দুই পাশ দখল করে চেয়ার পেতে বসে এবং চৌরাস্তার জিরো পয়েন্টে চতুর্মুখী আবাসিক হোটেল বয়দের বিভিন্ন সার্ভিসের নামে ব্যপক অনিয়ম রোধে অনুরোধ জানান তারা। স্থানীয় স্টক হোল্ডাররা আরো অভিযোগ করে বলেন,বহিরাগত ইজি বাইক, মটর সাইকেলযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। এছাড়া পর্যটন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পর্যটকের কাছ থেকে প্রতিটি পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য রাখাছে বলে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার উপর। তাই পর্যটকদের কাংখিত সেবার মানোন্নয়নে পণ্যের নির্ধারিত মূল্য তালিকা, পর্যটন স্পটে ভাড়ার তালিকা, পর্যটকদের সেবা দেওয়া ব্যক্তিদের নির্ধারিত যানবাহন ও পোশাক, প্রতিটি ব্যবসায়ীদের সেক্টর ভিত্তিক একত্রীকরণ। আবাসিক হোটেলের কক্ষ ও খাবার হোটেলের নির্ধারিত মূল্য তালিকার বাস্তবায়ন করতে জোর দাবী জানানো হয়।
জিরো পয়েন্টে সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিমে জরুরী প্রয়োজনে কোনো বাথরুম ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এছাড়া সৈকতে আরো বাথরুমের প্রয়োজন আছে দাবী করে দ্রুত এই সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় অতিথিরা পর্যটকের শতভাগ সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, পর্যটকদের সেবায় প্রশাসনের যেসকল ঘাটতি রয়েছে তা অচিরেই পূরণ হবে। পর্যটকদের সেবাদানে যেসকল অপর্যপ্ততা রয়েছে এর জন্য প্রশাসনকে অবহিত করতে অনুরোধ জানানো হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরী করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, কুয়াকাটা পৌরসভা, মহিপুর থানা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়ন একটি স্মার্ট পর্যটক সেবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্টোক হোল্ডাররা যেসকল অভিযোগ ও দাবী তুলেছে তা ফলপ্রসূ করতে ইতোমধ্যে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার (পদোন্নোতি) আবুল কালাম আজাদ সহ কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন বলেন, পর্যটকের নিরাপদ ভ্রমনে আমাদের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনের একটি মনিটরিং টিম প্রস্তুত করা হবে। যারা পর্যটকদের সেবার নামে হয়রানির কারন হবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিবো। পর্যটকদের সেবার মানোন্নয়নে প্রতিটি সেক্টরকে ঢেলে সাজানো হবে। জেলা প্রশাসন সহ কুয়াকাটা পৌরসভার সাথে সমন্বয় করে সৈকতকে বিনোদনের আধুনিক মানের রূপ দিতে নিরলস কাজ করবো। এছাড়া শেখ জামাল ও সেখ কামাল সেতুর টোলপ্লাজায় বাইকারদের ভোগান্তি নিরসনে ইতোমধ্যে মহিপুর থানা পুলিশের সাথে আলোচনা হয়েছে। এখন আর সেই ভোগান্তি থাকছে না। পর্যটকরা নির্বিগ্নেই কুয়াকাটা ভ্রমনে আসতে পারবেন। পর্যটকের সেবায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত মনিটরিং করছেন। ###