
বিশেষ প্রতিনিধি:
বউয়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে মামুন হাওলাদার (৩৫) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) ভোর ছয়টার পর পিরোজপুর যুব উন্নয়ন স্টাফ কোয়ার্টারে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মামুন হাওলাদার পিরোজপুর যুব উন্নয়নের আউটসোর্সিং ইলেকট্রিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী গ্রামে। তার পিতার নাম মাহবুব হাওলাদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে মামুন হাওলাদারকে ডাকাডাকি করা হলেও তিনি সাড়া দিচ্ছিলেন না। পরে দরজা ভেঙে তার সহকর্মীরা ঘরে ঢুকে দেখেন, তিনি ফ্যানের সাথে গামছা পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সোবহান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহতের সহকর্মী হরলাল জানান, বিয়ের পর থেকেই মামুন মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না জানিয়েই পিরোজপুর চলে আসেন।
মামুনের বোন মারুফা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই মামুন ও তার স্ত্রী চৈতি মিমের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। চৈতি মিম নানাভাবে মামুনকে মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন বলে তার দাবি। ঘটনার দিন সকালে মামুন তাকে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী তাকে এবং তার পরিবারকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এরপরই তিনি ভাইয়ের কাছে ছুটে আসেন, কিন্তু এসে দরজা বন্ধ পান। পরে দরজা ভাঙার পর তার ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান।
নিহতের পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।