
নেয়ামুল হক মিয়া,গৌরনদী (বরিশাল)
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো বরিশালের গৌরনদীতে ও সাপে কাটার বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে গ্রামাঞ্চলে, তবে উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় অনেক রোগীকেই জীবন দিতে হচ্ছে।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, বিশেষ করে এন্টিভেনমের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে সাপে দংশনের পর রোগীদের দ্রুত জেলা শহরের হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অনেকেই সেখানে পৌঁছানোর আগেই মারা যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন গ্রামে প্রতিদিনই সাপে কাটার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু সচেতনতার অভাব ও কুসংস্কারের কারণে প্রথমেই রোগীদের নিয়ে যাওয়া হয় ওঝার কাছে। ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট হওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু উপজেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না থাকায় আবারও জেলা শহরে পাঠানো হয় রোগীদের। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অনেক সময় রোগীর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয় না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে গৌরনদীতে চিকিৎসা সংকটের কারণে অন্তত পাঁচজন সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গৌরনদী পৌরসভার বানিয়াশুরি গ্রামের গৃহবধূ মাজেদা বেগম (৫০) সাপে দংশনের শিকার হন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ঝাড়ফুঁক করার পর তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে বরিশাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
২০২০ সালের মে মাসে দিয়াশুর গ্রামের কলেজছাত্র শাওন চৌকিদার (২১) সাপে দংশনের শিকার হন। উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু ঘটে।
এছাড়া একই বছরে বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামের ফারুক দেওয়ান, সরিকল ইউনিয়নের সাহাজিরা গ্রামের সাপুড়ে রেজাউল করিম এবং ২০২৩ সালে চন্দ্রহার গ্রামের রাজু সরদার সাপে দংশনের শিকার হয়ে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে জেলা শহরে নেওয়ার পথে মারা যান।
নিহতদের স্বজনদের দাবি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যদি বিষধর সাপে কাটা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকত, তবে এসব মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতো।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তৌকির হোসেন জানান, ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৬০ জন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে এসেছেন। এর মধ্যে বিষধর সাপে দংশিত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এন্টিভেনমের সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত উপজেলা পর্যায়ে এন্টিভেনম সরবরাহ ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রাণ এভাবে ঝরে না যায়।