
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার টেংরী গ্রামে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী শিরিনা জেসমিনের দাবি, তাঁর ক্রয় করা জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টেংরী গ্রামের মৃত ফরজ আলীর মেয়ে শিরিনা জেসমিন স্থানীয় আজাহার আলীর কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। জমিটি টেংরী মৌজার আরএস খতিয়ান নং-৪২ ও ৪৬৮, ডিপি নং-১০৭, নামজারি খতিয়ান নং-৪৩৩ এবং আরএস দাগ নং-১৭৫-এর অন্তর্ভুক্ত ১৮ শতাংশ জমির অংশ। এর মধ্যে সাড়ে তিন শতাংশ জমি তিনি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯১৩ সালের ২৯ অক্টোবর সম্পাদিত দলিলের মাধ্যমে আজাহার আলীর ঘরসহ ওই জমি ক্রয়ের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
শিরিনা জেসমিনের অভিযোগ, বর্তমানে আলী আকবর, আজাহার আলীর মেয়ে কল্পনা, তাঁর ছেলের স্ত্রী ফাতেমা বেগমসহ কয়েকজন ওই জমিতে জোরপূর্বক ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করছেন। নির্মিত ঘর সরিয়ে নিতে বললে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ঘর সরানোর উদ্যোগ নিলে হামলার চেষ্টা এবং মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আলী আকবর ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমি আমার স্ত্রীর নামে আজাহার আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ২০২৬ সালে ওই জমি ক্রয় করেছি।”
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, আজাহার আলী জীবিত থাকতেই তাঁর সব জমি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তাঁর নামে আর কোনো জমি অবশিষ্ট ছিল না। তাঁদের ভাষ্য, আনোয়ার হোসেন আলী আকবরের স্ত্রীর কাছে যে জমি বিক্রি করেছেন, সেটির বৈধ মালিকানা তাঁর ছিল না। জমিটির প্রকৃত মালিক আনোয়ার হোসেনের ফুফু রেজিয়া বেগম বলে দাবি করেন তাঁরা।
এদিকে, একই জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবিতে বিরোধ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে যেকোনো সময় এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী পক্ষ জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, নামজারি ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে জমির বর্তমান দখল পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।