
রিয়া মনি
ঢাকার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে তাকে ঘিরে ধরেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘হায়দার আলী ভবন’ পরিদর্শন শেষে বের হওয়ার সময়েও শিক্ষার্থীরা একইভাবে স্লোগান দিতে থাকেন—
“ভুয়া! ভুয়া!”
আইন উপদেষ্টা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে যাচ্ছিলেন। পথে শিক্ষার্থীরা তার পথ আটকে আবারও স্লোগান তোলেন। তিনি হাত তুলে কিছু বলতে চাইলে সেই সুযোগ পাননি।
শিক্ষার্থীরা দু’হাত তুলে আবারও বলেন—
“ভুয়া! ভুয়া!”
এই সময় আইন উপদেষ্টার পাশে দাঁড়ানো এক শিক্ষার্থী কিছু বলতে চাইলে আসিফ নজরুল বলেন, “ওকে বলতে দাও, বলতে দাও।” পাশে আরেক পুলিশ সদস্যকে সতর্কভাবে হাঁটতে দেখা যায়।
ওই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
“এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। লাশের সঠিক হিসাব তুলে ধরতে হবে।”
জবাবে আইন উপদেষ্টা কিছু বলার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের স্লোগানে তা চাপা পড়ে যায়।
পরে আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ প্রেস সচিব মোঃ আবুল কালাম আজাদ মজুমদারসহ কয়েকজন শিক্ষক ৫ নম্বর ভবনের নিচতলার কনফারেন্স কক্ষে প্রবেশ করেন।
সেখানে ৫–৭ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকেও আলোচনার জন্য ভেতরে ডেকে নেওয়া হয়।
সভা চলাকালে বাইরে শত শত শিক্ষার্থী “ভুয়া! ভুয়া!” স্লোগান তুলে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
সকাল ৯টা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকায় শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
পরে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন।
শিক্ষার্থী তাহমিদ ফাইয়াজ বলেন,
“আমরা মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখাচ্ছি। বিচারহীনতা, অবহেলা ও দমননীতির বিরুদ্ধে আমাদের দাবি স্পষ্ট, আমাদের অবস্থান অটল।”
আরেক শিক্ষার্থী বলেন,
“এত বড় ট্রাজেডি কেন ঘটলো, আমরা এর জবাব চাই। এই হত্যার দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি:
• নিহতদের সঠিক নাম ও তথ্য প্রকাশ করা
• আহতদের সম্পূর্ণ ও নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা
• শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জনসমক্ষে সেনা সদস্যদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া
• নিহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া
• বিমান বাহিনীর ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরনো উড়োজাহাজ বাতিল করে আধুনিক উড়োযান চালু করা
• বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিবর্তন করে আরও ‘মানবিক ও নিরাপদ’ ব্যবস্থা চালু করা