
জাবি প্রতিনিধি
বনভূমি উজাড় করে যত্রতত্র ভবন নির্মাণ না করে অংশীজনের মতামত নিয়ে মাস্টারপ্লান প্রণয়নের দাবিতে সংহতি সমাবেশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা ।
শনিবার ( ১১ নভেম্বর) বিকাল ৪ টায় পরিবহন চত্ত্বরে জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলনের ব্যানারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উন্নয়ন প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের আন্দোলন চলমান। সম্প্রতি আইবিএ বিল্ডিং নির্মাণের জন্য রাতের আঁধারে ক্যাম্পাসের গাছ কাটা হয়েছে। লুকিয়ে কাটা হয়েছে আইআইটি বিভাগের পিছনের গাছ। মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন না করে যত্রতত্র বিল্ডিং নির্মাণের স্বেচ্ছাচারিতা এবং বন উজাড় করার ক্ষমতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-প্রকৃতির প্রশ্নে যেন অন্ধ হয়ে উঠেছে প্রশাসন। এমতাবস্থায় সকল অংশীজনের অংশগ্রহণে এবং সকল স্তরের মানুষের কাছে চলমান আন্দোলন ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতেই আজকের এই সংহতি সমাবেশের আয়োজন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলেনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, জাহাঙ্গীরনগরের বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রকৃতি বাংলাদেশের ১৫/১৬ শতাংশ বনভূমিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু পুঁজিপতি গোষ্ঠী স্বার্থের জন্য এ বন ধ্বংস করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকদের মতামত আছে । তারা কি চায় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিজের খেয়ালমতো করলে তো চলবেনা । তাই আমি ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলনের’ সাথে সংহতি জানিয়ে মাস্টারপ্লান প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি।
অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, বর্তমান উপাচার্য অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পুনর্বিন্যাস করে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করতে পারতেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি। সকল সংকট দূর করাই হলো মাস্টার প্ল্যান। অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ বরলে যে কি হয় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ অন্যতম উদাহরণ। তাছাড়া অডিটোরিয়ামে বসে কথা বললে কথা শোনা যায়না এটাও অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের ফল। আইবিএ দরকার বলেই তো মাস্টার প্লান দরকার । যারা আইবিএ ভবন নির্মাণের আন্দোলন করছেন , আবার যারা মাস্টার প্লান এর জন্য আন্দোলন করছেন এই দুয়ের মধ্যে তো কোন পার্থক্য দেখছিনা। যদি মাস্টার প্লান প্রণয়ন করে আই বিএ ভবন নির্মাণ করা হয় আরো ভালো হবে। তাই বলবো এই আন্দোলন আইবিএ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নয়। তাদেরকেও একসাথে হয়ে, যৌথভাবে এই আন্দোলনে যোগ দান করার আহবান জানাই।
তিনি আরো বলেন, যদি মাস্টারপ্ল্যান করা হতো তাহলে চোরের মতো গাছ কাটার প্রয়োজন ছিল না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে এই দায়িত্ব নিতে হবে। একজন শিক্ষার্থীও যদি এই দাবি জানান তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তার গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সকল কাজ বন্ধ থাকুক। এই আন্দোলনের সাথে সবাই একমত পোষণ করুক সেই দাবি জানাচ্ছি।