
জামিউল ইসলাম জীবন
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে ক্ষমতাবানদের প্রশ্নের মুখোমুখি করার যে ধারা বিশ্বব্যাপী, তার চর্চা নেই বাংলাদেশে। শুধু তাই নয়, এখানে নিজ থেকেই সংবাদ চেপে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সুরক্ষার অভাব। এমনটা মনে করেন, দেশের বিজ্ঞ সাংবাদিকরা। ওয়াটারগেইট, এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা তথ্য, কিংবা পানামা পেপার্স—এসব বড় বড় অনুসন্ধানী রিপোর্ট ক্ষমতাবানদের কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অনেক সময় এসব প্রকাশে ক্ষমতাসীন বা তাদের ঘনিষ্ঠরা ভয় পেয়ে গেছে, অবস্থান নড়ে গেছে, এমনকি চাপের মুখে মাথা নত করতেও হয়েছে।
অনেক দেশের সাংবাদিকরা যৌথভাবে কাজ করে এসব তথ্য উদঘাটন করেছেন। সময়, দেশ ও প্রেক্ষাপট ভেদে দলগত অনুসন্ধান নিয়ে এসেছে ব্যক্তি, সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লুকানো নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।
সাংবাদিকতার মৌলিকত্ব যেহেতু অনুসন্ধান যার মাধ্যমে প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয় ক্ষমতাবানদের, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?
এই অবস্থান জানার আগে আমাদের জানা দরকার, RSF(Reporters Without Borders) বাংলাদেশকে“খুব গুরুতর (very serious)” প্রেস ফ্রিডম পরিস্থিতা অবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, অর্থাৎ উন্নতির কথা থাকলেও স্বাধীনতা এখনও সীমিত। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইনগত কাঠামো, অর্থনৈতিক অবস্থা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ, এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এর ভিত্তিতে সারাবিশ্বে ১৮০ দেশের সমীক্ষা এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৯ তম এবং স্কোর ৩৩.৭১।
বাংলা ভিশন এর রংপুর বিভাগ প্রতিনিধি বলেন, বিশ্বে যে লেভেলে, যেমন ডেডিকেশন বা ইচ্ছাশক্তি নিয়ে সাংবাদিকতা করা হয় তেমন করে বাংলাদেশে সাংবাদিকতা করা হয় না। তিনি তার দীর্ঘ আড়াই বছরে সাংবাদিকতায় অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতায় বারংবার নানা হুমকি,সমস্যায় পড়েছেন।এছাড়াও বেরোবি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি এবতেশাম বলেন,তিনি কিছুদিন আগে ভার্সিটি গেটের সামনে মিছিল কে কেন্দ্র করে ঝামেলায় দুজনের কাছে বন্দুক পাওয়া যায়। ছবি পেলেও তার তোলা ছবি ফোন কেড়ে নিয়ে ডিলেট করা হয়।তিনি আরও বলেন,অনুসন্ধান খবর সংগ্রহ ও প্রকাশের সময় বিভিন্ন রকমের রাজনৈতিক চাপ এবং হুমকির সম্মুখীন হয়ে থাকেন।
বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রকাশ করেন—সেই কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইন, ক্ষমতার চাপ, মামলা, হুমকি সব একসাথে কাজ করে । বাংলাদেশে কঠোর ও অস্পষ্ট আইন,রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও ক্ষমতাবানদের চাপ,সাংবাদিকদের জন্য আলাদা সুরক্ষামূলক আইন নেই,মিডিয়া মালিকানা ও রাজনৈতিক প্রভাব,তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা,নিরাপদ কর্মপরিবেশ নেই,স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা কম এসব কারণে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও এখনও শক্তভিত পায় নি সাংবাদিকতায়।