
(নাসিম আহমেদ শিমুল) ,কালিয়াকৈর(গাজীপুর) প্রতিনিধি :
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বড়ইবাড়ি এ কে ইউ ইনস্টিটিউশন ও কলেজের অধ্যক্ষ সোলায়মান সিকদার স্বপদে বহাল হয়েও অফিস করতে পারছেন না।
গতকাল রোববার সকাল দশটার দিকে বড়ইবাড়ি এ কে ইউ ইনস্টিটিউশন ও কলেজের সামনে গিয়ে দেখা গেছে শতাধিক লোকজন সেখানে এ নিয়ে কথাবার্তা বলছেন সেখানে অধ্যক্ষ সোলায়মান সিকদারের নিকট জানতে চাওয়া হয়- সাময়িক দরখাস্ত হওয়ার পর কিভাবে তিনি স্বপদে বহাল হলেন-এর উত্তরে তিনি জানান বিধি মোতাবেক গত ১০-৫-২০১৮ সালে তিনি ওই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন এবং ২৫-০২-২০২১ সালে তৎকালীন গভর্নিং বডি তাকে অন্যায়,অবৈধ ও বেআইনিভাবে সাময়িক দরখাস্ত করেন তারই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ঐ সাময়িক বরখাস্তকে চ্যালেঞ্জ করে অধ্যক্ষ সোলায়মান হাইকোর্টে রীট করেন।রীটের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ শুনানির পর হাইকোর্ট অধ্যক্ষ সোলায়মান সিকদারকে স্বপদে বহাল হওয়ার জন্য গাজীপুর জেলার (জিপি) বরাবরে আইনি মতামত চেয়ে চিঠি পাঠান। অধ্যক্ষ সোলায়মান আরো বলেন সেই আইনি মতামতের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যেহেতু অধ্যক্ষ সোলায়মান সিকদারকে ২৫.২.২০২১ তারিখে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় যেহেতু বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষককে ৬০ দিনের বেশি সাময়িক বরখাস্ত রাখার নিয়ম নেই এবং যদি কোন শিক্ষককে ৬০ দিনের বেশি সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয় এবং এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হয় এবং কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তবে সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষক স্বয়ংক্রিয় ভাবে তার পদে বহাল থাকবেন। এবং নিয়ম অনুযায়ী বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি ভোগ করবেন।
তিনি আরও বলেন আমার ক্ষেত্রে যেহেতু সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরেও ৬০ দিন অতিবাহিত হয়েও প্রায় সাড়ে তিন বছর চলে গেছে এমতাবস্থায় সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আমি স্বয়ংক্রিয় ভাবে স্বপদে বহাল। তারপরও গভর্নিং বডির সভাপতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা পত্র পেয়ে আমাকে স্বপদে বহাল ও বেতন ভাতা সহ অন্যান্য কাজকর্ম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দিয়ে চিঠি প্রদান করেন।যাহা গভর্নিং বডি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ৬/৮/২০১৭ তারিখের পত্রের নির্দেশনা মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমাকে ও মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ( কলেজ) এর তপন কুমার স্বাক্ষরিত গত ২৬-১১-২০২৩ তারিখের ৫৮৮১/৬ ন়ং স্মারকে এর একটি পত্র ১)সভাপতি গভর্নিং বডি বরইবাড়ি এ কে ইউ ইনস্টিটিউশন ও কলেজ, ২) অধ্যক্ষ একে ইউ ইনস্টিটিউশন ও কলেজ অনুলিপি অবগতি ১) পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ঢাকা অঞ্চল ২) শিক্ষা কর্মকর্তা আইন এর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ ঢাকা ৩) জেলা শিক্ষা অফিসার গাজীপুর ৪) উপজেলা শিক্ষা অফিসার কালিয়াকৈর ৫) জনাব মোঃ সোলায়মান সিকদার অধ্যক্ষ(সাময়িক) বরখাস্ত বরইবাড়ি এ কে ইউ ইনস্টিটিউশন কলেজ, কে অবগতি পত্র প্রেরণ করেন। অধ্যক্ষ সোলায়মান আরও বলেন,যেহেতু মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষককে ৬০ দিনের বেশি অভিযোগ প্রমাণিত ছাড়া সাময়িক বহিষ্কার বা স্থায়ী বহিষ্কার করা যায় না সেহেতু আইনে বলা আছে কোন অভিযুক্ত শিক্ষক ৬০ দিনের বেশি সাময়িক বরখাস্ত হলে এবং আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্বপদে পদে বহাল হবেন,সেহেতু আমি দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে উক্ত পদে আমি বহাল হয়েছি,বিষয়গুলো গভর্নিং বডির সভাপতি বরাবর চিঠি প্রাপ্ত হয়ে সভাপতি মহোদয় গত ৬ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে আমাকে চিঠি দিয়ে স্বপদে বহাল হওয়ার বিষয়টি অবহিত করেন এবং আমি স্বপদে বহাল হয়ে গত মার্চ মাসের বেতন ভাতা উত্তোলন করে শিক্ষক ও স্টাফদের মাঝে বিতরণ করেছি।
যেহেতু এইচএসসি সাধারণ ও এইচএসসি কারিগরি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বিধায় গতকাল যথারীতি রোববার অফিস চলাকালীন সময়ে আমি আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তালা দেখতে পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাইলে তারা সেখানে যান এবং স্থানীয় ব্যক্তিবর্গদের সাথে কথা বলেও এর সূরাহা হয়নি।
এ সময়ে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন চাপাইর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত ইমরানসহ কালিয়াকৈর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক ফেন্সি বিশ্বাস জুয়েল। ফেন্সি বিশ্বাস জুয়েল বলেন, যেহেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ২৮ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সেহেতু এরই মধ্যে অধ্যক্ষ সোলায়মান ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (সাবেক) তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে করনীয় ঠিক করবেন এর মধ্যে কোন পক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে কোন প্রকার বল প্রয়োগ করতে পারবেননা মর্মে জানিয়ে দেন।
ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,সভাপতি হিসেবে আমি বর্তমান অধ্যক্ষ সোলায়মান সিকদারকে নিয়োগ বা পুনর্বহাল করিনি। আমাকে ডিজি মহোদয়ের দপ্তর হতে (সাময়িক- বরখাস্ত)অধ্যক্ষ সোলায়মান সিকদারকে স্বপদে বহালএবং ভারপ্রাপ্ত (সাবেক)অধ্যক্ষ সুশীল চন্দ্র সরকারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে অব্যাহতি দিয়ে ১০ কার্য দিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন।আমি শুধু ডি জি মহোদয়ের দপ্তর হতে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সভাপতি হিসেবে আমি ওই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছি মাত্র। এবং অধ্যক্ষ সোলায়মান শিকদারের স্বপদে বহাল এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুশীল চন্দ্র সরকারকে তার ভারপ্রাপ্ত পথ থেকে অব্যাহতি এই বিষয়গুলো নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা একজন গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে আমি মোটেই আশা করি না এবং কলেজের ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ মঙ্গলের জন্য এসব কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এবং কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ বা অন্যান্য যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো চলে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার উপর। যারা অধ্যক্ষ সোলায়মান শিকদারের স্বপদে বহালে নিয়ে বা তার এই অধ্যক্ষের পদে ফিরে আসাকে মেনে নিতে পারছেন না বা নিয়ম বহির্ভূত বলে মনে করছেন তারা তো এই বিষয়টাকে চ্যালেঞ্জ করে আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন।কিন্তু কলেজ গেটে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি করা হচ্ছে এটা কোন শিক্ষকের বা এলাকাবাসীর কাম্য হতে পারেনা।