
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
সিপিসি-৩, র্যাব-১৪, টাঙ্গাইল ক্যাম্প কর্তৃক পৃথক দুটি অভিযানে হত্যা মামলার তিনজন আসামি এবং ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রথম অভিযান:
র্যাব সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের সখিপুর থানার একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা ও নিহত কোরপান আলী (৭০) একই গ্রামের বাসিন্দা। নিহতের স্ত্রী মানসিক রোগে আক্রান্ত। গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার একপর্যায়ে নিহতের স্ত্রী বাড়ির বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন। সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টার দিকে কোরপান আলী স্ত্রীকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে গেলে বিবাদীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. মিজানুর রহমান (২২) বাদী হয়ে সখিপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৫(০১)২৫, ধারা-৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি)।
মামলার পর র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং এরই ধারাবাহিকতায় ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে টাঙ্গাইল সদর থানার ছোট কালিবাড়ি বিশ্বাস বেতকা এলাকা থেকে মামলার ৪নং আসামি রাসেল মিয়া (৩৭), একই দিন করোটিয়া এলাকা থেকে ৫নং আসামি মর্জিনা বেগম (৩২) এবং গাজীপুরের শ্রীপুর থানার মাওনা চকপাড়া এলাকা থেকে এজাহারনামীয় ১নং আসামি মোহাম্মদ আলী (৬০) কে গ্রেফতার করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযান:
অন্য একটি ঘটনায় পর্নোগ্রাফি ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মিলন (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, ধৃত আসামি কৌশলে ভিকটিমের নগ্ন ছবি ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে এক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে। ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভিকটিমকে পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং সেই ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে ভিকটিমের করা মামলার প্রেক্ষিতে (মামলা নং-৩৮(১০)২৫, ধারা- পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১)/৮(২) ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১)/৯(৪)(খ)) র্যাব অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত ৩টায় টাঙ্গাইল সদর থানার গালুটিয়া এলাকা থেকে প্রধান আসামি মিলন (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।