
খুবি প্রতিনিধি
বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, উত্তরবঙ্গের অবহেলিত মানুষের অধিকার নিশ্চিতকরণ ও বন্যা কবলিত এলাকায় দ্রুত রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাঠানোর দাবিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার দুপুর ১.১৫ মিনিটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সময়ে বর্ষা মৌসুম এলেই উত্তরবঙ্গের মানুষ থাকে আতঙ্কিত ।না জানি ভারত কখন তিস্তার পানি ছেড়ে দেয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে উত্তরবঙ্গের অনেক শিক্ষার্থী এবং ছাত্র বিষয়ক পরিচালক ড.নাজমুস সাদাত । ড. নাজমুস সাদাত বলেন, “ভারতের শোষণমূলক পররাষ্ট্র নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা আর শুষ্ক মৌসুমে মরুভূমি ও বর্ষায় পানিতে ভাসতে রাজি নই।”
ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সাঈদ নেওয়াজ বলেন, “তিস্তা হলো আন্তর্জাতিক নদী ভারত ইচ্ছা করলেই এর প্রবাহকে বাঁধা দিতে পারে না।শেখ হাসিনা সরকার থাকা অবস্থায় যে চুক্তিগুলো করা হয়েছে সেখানে ভারত ৮০শতাংশ লাভবান হতো আর বাংলাদেশ ২০শতাংশ উপকৃত হতো”
এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের 20 ব্যাচের শিক্ষার্থী আল হোসেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন :
১) তিস্তা কমিশন গঠন করে দ্রুত তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে ।
২) তিস্তা পাড়ের মানুষের একদিকে নদী ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ভিটা মাটি অন্যদিকে বন্যায় ভেসে যাচ্ছে সর্বস্ব। তাই প্রতিকারের নিমিত্তে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে দ্রুত স্হায়ী পূর্নবাসনের আওতায় আনতে হবে।
৩) শুষ্ক মৌসুমে মৃতপ্রায় তিস্তা, বর্ষায় আগ্রাসী হয়ে ওঠে। তাই নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে এনে নদী শাসনের ব্যাবস্হা করতে হবে।
৪)নদী রক্ষা বাঁধের নামে নদীর উৎসমুখ বন্ধ করে ঘাঘট-মানস-বাইশাডারার মতো শাখা নদীগুলোকে তিস্তা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। তাই অপরিকল্পিতভাবে নদী রক্ষা বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মাণ বন্ধ করতে হবে।
৫) ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার প্রতিবাদে এবং তিস্তা চুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকারের
জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে ।
আইন ডিসিপ্লিনের য্যোতি রায় ছাড়াও অনেকেই বক্তব্য রাখে এই মানববন্ধনে।আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ এই স্লোগান দিয়ে তারা তাদের মানববন্ধন শেষ করেন।