
টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন স্বতন্ত্র এমপি পদপ্রার্থী মোঃ আব্দুল হালিম মিঞা। মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে তার সরব উপস্থিতি ইতোমধ্যেই সাধারণ ভোটার, তৃণমূল নেতা-কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সাথে নিবিড় সম্পৃক্ততা এবং দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি জনগণের প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি পূর্বে কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। আব্দুল হালিম মিঞা বলেন আল্লাহর অশেষ রহমতে কখনো দলীয় উচ্চপর্যায়ের কারো কাছে ধর্ণা দিতে হয়নি। ব্যক্তিগত ব্যবসা কিংবা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য রাজনৈতিক আদর্শ বিসর্জন দিয়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। এমনকি দুঃসময়ে রাজনীতি ছেড়ে সুবিধাজনক সময়ে হঠাৎ ফিরে আসার পথও বেছে নেননি। ১/১১ পরবর্তী সময়ে মরহুম শাজাহান সিরাজ কালিহাতী বিএনপি থেকে দূরে সরে গেলে তার অনুপস্থিতিতে তিনি স্থানীয় রাজনীতির হাল ধরেন এবং বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী চরম দুঃসময়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখ নিজের জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেন। ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন পবিত্র হজ বা উমরাহ নিয়ে কটূক্তি কিংবা ধর্মভিত্তিক বিভাজনমূলক রাজনীতি তার নীতি ও আদর্শে কখনো স্থান পায়নি। তিনি মনে করেন দেশ জনগণের সংবিধান জনগণের, ভোটাধিকারও জনগণের আর সেই বিবেকবান সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ। নির্বাচিত হলে কালিহাতীর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তার ঘোষিত নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তার নির্বাচনী দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। তিনি মনে করেন নাগরিক সেবা পেতে হয়রানি মিথ্যা মামলার ভয়, অধিকার বঞ্চনা, প্রশাসনিক জটিলতা এসব সমস্যার মূল কারণ আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাব। তাই তিনি সরকারি-বেসরকারি সব কর্মকাণ্ডে উপজেলার সব শ্রেণির প্রতিনিধির কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই জবাবদিহিমূলক অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কালিহাতীকে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য নিরাপদ ও সম্প্রীতির মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মাদকবিরোধী অবস্থান তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান দিক। তিনি উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে কালিহাতীকে মাদকমুক্ত মডেল উপজেলায় রূপান্তর করতে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরকে তিনি উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখেন। এ লক্ষ্যে কালিহাতীর বিদ্যমান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার আধুনিকায়ন আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার উপযোগী নতুন ৮ থেকে ১০টি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু, স্বল্প বা বিনা খরচে জাপান, কোরিয়া ও ইউরোপে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক, প্রতিবন্ধী ও অসহায় জনগোষ্ঠীকে সক্ষমতা অনুযায়ী আয়ের ব্যবস্থায় যুক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন যাতে সমাজের কেউই অবহেলিত বা বোঝা মনে না হয়। অবহেলিত কালিহাতী পৌরসভাকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গড়ে তোলা এবং উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বারখ্যাত এলেঙ্গা পৌরসভাকে দেশের জন্য অনুকরণীয় মডেল পৌরসভায় উন্নীত করার অঙ্গীকারও করেন তিনি। নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে আব্দুল হালিম মিঞা বলেন পশ্চাদপদ নারী সমাজকে স্বনির্ভর করতে কারিগরি প্রশিক্ষণকে আরও আকর্ষণীয় ও বাজারমুখী করা হবে যাতে তারা শ্রমবাজারে যুক্ত হয়ে পারিবারিক আয়ে অবদান রাখতে পারে, আত্মসম্মানবোধ ফিরে পায় এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলায় দারিদ্র্যের হার প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও সব উপাসনালয়ের আধুনিকায়ন রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বচ্ছ পরিচালনা নিশ্চিত করে প্রচলিত দুর্নীতি প্রতিরোধের পরিকল্পনা তুলে ধরেন আব্দুল হালিম মিঞা। পরিবেশ সুরক্ষায় তিনি শুকিয়ে যাওয়া খাল-বিল-পুকুর পুনরুদ্ধার, স্থানীয় মুরব্বী ও তরুণ সমাজের অংশগ্রহণ এবং তাপপ্রবাহ মোকাবেলায় ছয় মাসে অন্তত দুই লক্ষ বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। অবকাঠামো উন্নয়নে এলেঙ্গা-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এবং কালিহাতী-সখীপুর (বড়চওনা) হয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা পর্যন্ত সড়ক প্রকল্পের অবশিষ্ট অংশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন যা আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য প্রবাহে নতুন গতি সঞ্চার করবে। স্বাস্থ্যখাতে টাঙ্গাইল জেলার উপর নির্ভরতা কমাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিতকরণ এবং এলেঙ্গায় ২৫ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের মানুষকে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরেন আব্দুল হালিম মিঞা। আর্থিকভাবে অসচ্ছল নাগরিকদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সমাজের বিত্তবানদের সম্পৃক্ত করে সহায়তা বৃদ্ধির কথাও বলেন। শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে ১৩টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার প্রতিটিতে একটি করে উচ্চবিদ্যালয়কে ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনা, পিছিয়ে পড়া কওমী মাদ্রাসা আধুনিকায়ন, আলেম সমাজের সাথে সমন্বয়ে যুগোপযোগী শিক্ষা সংস্কার, সনাতন ধর্মীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে মন্দিরভিত্তিক আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু এবং মসজিদ-মাদ্রাসা-মন্দির প্রতিনিধিদের সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন। আব্দুল হালিম মিঞা মনে করেন মানবিক-দক্ষ ও আধুনিক নাগরিক গঠনে এসব উদ্যোগ যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। নির্বাচিত হলে জনগণকে সাথে নিয়েই প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে আব্দুল হালিম মিঞা বলেন, তার ও তার পরিবারের দরজা যেমন আগে সবার জন্য খোলা ছিল ভবিষ্যতেও তেমনি খোলা থাকবে। গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করতে ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি উচ্চারণ করেন- “আমার ভোট আমি দিবো, যাকে খুশি তাকে দিবো। দক্ষ দেখে পক্ষ নিন, যোগ্য দেখে ভোট দিন। আব্দুল হালিম মিঞা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন কালিহাতীবাসী তাদের বিবেকবান সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করবে এবং উন্নয়ন-সম্প্রীতি, মানবিকতা ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে কালিহাতী উপজেলাকে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মডেল জনপদে পরিণত করবে।