
পাবনা জেলা প্রতিনিধি
লাবলু বিশ্বাস।
দীর্ঘদিন ধরে গরুর মাংসের দাম বেশ চড়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে গরুর মাংসের দাম। বর্তমানে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংসের দাম কমছে।
বিভিন্ন বাজারে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। দীর্ঘদিন ধরে গরুর মাংসের কেজি ছিল ৮০০ টাকা।
আজ (২১ নভেম্বর) রোজ মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা ও বাড্ডা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রয় হচ্ছে ৬৫০-৭৫০ টাকা, দরদাম করে ক্রয় করলে আরো কম দামে কেনা যাচ্ছে।
এছাড়াও পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার ঈশ্বরদী বাজার এবং শিমুলতলা নতুনহাট বাজার ঘুরে দেখা যায় গরুর মাংসের দাম অনেকটা কম। এবং সেখানে বিক্রি হচ্ছে ৬৩০-৬৮০ কেজি। গরুর মাংস কিনতে আসা ক্রেতা মিঠু, সোহেল, হান্নান , মুন্না সহ আরো অনেকের সাথে কথা বললে তারা জানান গরুর মাংসের দাম অনেক কমেছে।
বাজারে শুধু নয়, সুপারশপ, গুলোতেও আগের চেয়ে কম দামে মাংস বিক্রি করছে।
মধ্যবাড্ডা স্বপ্ন সুপারশপে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য সুপারশপেও মাংসের দাম ৭৫০ টাকার মধ্যে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ঢাকার বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৩০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে। এক সপ্তাহ আগেও যা ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা ছিল। গত বছরের এ সময়ে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ছিল ৬৬০ থেকে ৭০০ টাকা। টিসিবির হিসাব মতে গত বছরের তুলনায় বাজারে এখন মাংসের দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকা বেশি, যা প্রায় ৯ শতাংশ।
বাড্ডা প্রধান সড়কে সাদ্দাম গোস্ত বিতানের কর্ণধার দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, দীর্ঘসময় মাংসের দাম অস্বাভাবিক ছিল। দাম কমে যাওয়া এখন কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে দাম আরও কমলে ক্রেতারা খুশি হতেন।
তথ্য বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গত জানুয়ারি মাসে গরু মাংসের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। গরুর খাবারের দাম বেশি, খামারিদের পোষাচ্ছে না, হাটে বেশি দামে গরু বিক্রি হচ্ছে— এসব অজুহাতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যবসায়ীরা মাংসের দাম এক দফা বাড়িয়ে দেন।
তখন তারা ৬৮০ থেকে ৭২০ টাকায় প্রতি কেজি মাংস বিক্রি শুরু করেন। এরপর কিছুদিন বাদে ফের এক দফা বেড়ে কোথাও কোথাও কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকায়ও মাংস বিক্রি হয়। এরপর শবে বরাত উপলক্ষে এক দফা দাম বাড়ে, যা রোজার মধ্যে এসে ৮০০ টাকায় স্থায়ী হয়। এরপর দীর্ঘদিন এ দামে মাংস কেনাবেচা হলেও বর্তমানে কিছুটা নিম্নমুখী মাংসের দাম।
মালিবাগে খোরশেদ গোস্ত বিতানের খোরশেদ আলম বলেন, গ্রামগঞ্জে গরুর দাম কমেছে। তাই দাম কমিয়ে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। অল্প মাংস কিনলেও ৭৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বেশি অর্ডার করলে দাম আরও কিছুটা কমানো যাচ্ছে। আগের তুলনায় প্রতিটি গরুর দাম ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা কম। গরুর বাজার আরও কিছুদিন নিম্নমুখী থাকলে দাম আরও কমতে পারে।