
আলামিন খান
জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার একটি টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাবি শাখা। সংগঠনটির দাবি, তিনি নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। এ ঘটনায় তার নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ফেরদৌস আল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ মার্চ একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের আয়োজিত টকশোতে অংশ নিয়ে অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯–এর আওতায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, “দেশের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগকে ফিরতেই হবে।” শিবিরের দাবি, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে বিতাড়িত শক্তিকে পুনর্বাসনের আহ্বান জানানো নতুন বাংলাদেশের চেতনার পরিপন্থী।
শাখা সভাপতি ও সেক্রেটারি তাদের বিবৃতিতে আরও বলেন, গত ১৬ বছরের শাসনামলে সংঘটিত নানা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সহিংসতার কারণে যে রাজনৈতিক শক্তির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাদের পক্ষে গণমাধ্যমে সাফাই গাওয়া উস্কানিমূলক এবং এটি দেশের ভেতরে পুনরায় অস্থিরতা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিবৃতিতে অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধাকে অনতিবিলম্বে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, যদি এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য এ বিষয়ে অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।